এসপিবি.এন নিউজ – অনলাইন ডেস্ক: উপজেলার সবচেয়ে ধুরন্দার ধাপ্পাবাজ চালাক ব্যবসায়ী পাটগ্রাম বাজারের রহমান ইলেক্ট্রনিক্স এর মালিক আব্দুর রহমানকে নকল ওয়ালটন পন্য সহ হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।তিনি এক সময়ের মুদি দোকানদার বর্তমানে কোটিপতি ব্যবসায়ী।

আভা সুজ স্যান্ডেলের দোকান বাদ দিয়ে তিনি শুরু করেন ওয়ালটনের পন্য ব্যবসা।তার শ্বশুড় ও শ্যালক লালমনিরহাটে ওয়ালটনের ডিলার/ এজেন্ট হওয়ার সুবাদে আব্দুর রহমান সেখান থেকে ফ্রীজ,টিভি,মোটর সাইকেল,রাইচকুকার,ভোল্টেজ স্টাপ্লাইজার সহ বিভিন্ন মাল এনে নগদ বাকীতে ব্যবসা শুরু করেন।তার টার্গেট ছিল ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও চাকুরীজীবি।

মাসিক তিন কিস্তিতে মূল্যছাড় এক কালীন ক্যাশে বিশেষ সুবিধা কথা বলে ওয়ালটনের ফ্রীজের আসল দামের সাথে আরও ১০/১১ হাজার টাকা যোগ করেন।গত বছর ঈদুল আযহায় ঘটনা ধরা পরে বুড়িমারী উফারমারা এলাকার নেতা পারুলের ভাইয়ের কাছ থেকে একটা ফ্রীজে ১০ হাজার টাকা বেশি নেয়ার কারনে আরও একটা ফ্রীজ জরিমানা দিয়ে হাতেপায়ে ধরে ক্ষমা চান।

এর আগে পাটগ্রাম থানা ওসি রেজাউল করিম ও বাজার সমিতির সভাপতি সায়েদুজ্জামান সায়েদ ঘটনা মীমাংসা করে দেন।প্রতি ফ্রীজ ১০/১১/১২ হাজার টাকা লাভে বেচার কারনে ৫ বছরে রহমান ৫ শ ফ্রীজে প্রায় কোটি টাকা কামিয়ে নেন।বাজার সমিতির সভাপতির নির্দেশে ওই সময় কয়েকজনকে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা করে ফেরত দেয়া হয়।এরপর শুরু করেন যমুনার ফ্রীজ ব্যবসা কিন্তু শো রুমের উপরে থেকে যায় ওয়ালটনের সাইনবোর্ড ও লাইট বিলবোর্ড।

সম্প্রতি পাটগ্রামে ওয়ালটনের নিজস্ব শো রুম হওয়ার কারনে ওয়ালটন কতৃপক্ষ ভিতরে ভিতরে রহমান ইলেক্ট্রনিক্স এ নজরদারী শুরু করেন।ওয়ালটনের ঢাকা অফিস থেকে তদারকির একপর্যায়ে গত ২৭ জানুয়ারী তাদের লোক রহমান ইলেক্ট্রনিক্সে একটি ভোল্টেজ স্টাপালাইজার ২৪০০/ টাকায় কিনে রশিদ / মেমো নেন।

আজ সোমবার সন্ধার পরে ঢাকা থেকে আগত আইনজীবি ও কোম্পানীর এমডি পুলিশের সহযোগিতায় রহমানকে নকল পন্যসহ দোকানে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে নকল মাল তৈরী করে ওয়ালটনের লেবেল লোগো ব্যবহার,কোম্পানীর সুনাম নষ্ট,গ্রাহকের সঙ্গে ডিজিটাল প্রতারনার অভিযোগ এনে থানায় অভিযোগ করেছেন।

৭ টি নকল ভোল্টেজ স্টাপ্লাইজার জব্দ করা হয় যেগুলো রহমানের বাসায় ও লালমনির হাটে শ্বশুড় বাসায় তৈরী করে ৫ শ টাকার খরচে ২৪০০/ টাকা বেচা হয়।এতে ওয়ালটনের পন্যের মান নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তিনি ওয়ালটন পন্যে কোটি টাকা কামিয়ে বিভিন্ন স্থানে কম দামে জমি কিনে এখন প্লট কেনাবেচার ব্যবসা শুরু করেন।বাসাবাড়ি একাধিক জায়গায় করেছেন কিন্তু সঠিক হিসাবে আয়কর প্রদান করেননি।এলাকায় তিনি বিশিষ্ট সুদারু নামেও পরিচিত।

পাটগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ তদন্ত অফিসার মাহফুজ আলম রাত ১১ টার সময় জানান,ওয়ালটন কোম্পানীর পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। রহমানকে হাজতে রাখা হয়েছে।