এসপিবি.এন নিউজ – অনলাইন ডেস্ক: গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলায় এক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মেম্বারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার নাম মো. রেজাউল ইসলাম লিটন ওরফে ডিস লিটন (৩৫)। সোমবার ভোর রাতে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের ধোপাডাঙ্গা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিয়ার রহমান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতার রেজাউল ইসলাম লিটন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার)। এছাড়া তিনি ক্যাবল (ডিস) ব্যবসায়ী। তিনি রামভদ্র (কদমতলা) গ্রামের বাসিন্দা।

ওসি মো. আতিয়ার রহমান জানান, লিটন হত্যা মামলায় রেজাউলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে থানা হাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আজ দুপুরে মধ্যে রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

তবে রেজাউলের পরিবারের দাবি, ১৪ জানুয়ারি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ময়েজমিয়ার হাট এলাকা থেকে সুন্দরগঞ্জ থানার (এসআই) মো. ইজার আলী ও গোলাম মোস্তফা রেজাউল ইসলাম লিটনকে আটক করে। এরপর থেকে লিটনের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে রবিবার দুপুরে রেজাউল ইসলাম লিটনের মা আম্বিয়া খাতুন গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা ও থানা পুলিশ প্রশাসন এবং জেলা প্রশাসনের কাছে তার সন্তানকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।

রেজাউলকে আগে থেকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে ওসি আতিয়ার রহমান বলেন, ‘সোমবার ভোর রাতে তাকে আটক করা হয়েছে।’

এদিকে, এমপি লিটনকে হত্যা করার পর থেকে পুলিশ সুন্দরগঞ্জসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপকভাবে সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়। ফলে জামায়াত, শিবির ও বিএনপিকর্মীসহ সন্দেহভাজন শতাধিক ব্যক্তিকে আটক ও ১৪ জন গ্রেফতার করে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের সাহবাজ (মাষ্টারপাড়া) গ্রামের নিজ বাড়িতে আততায়ীদের গুলিতে আহত হন মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। গুরুত্বর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে মারা যান তিনি। এ ঘটনায় লিটনের বড় বোন তাহমিদা বুলবুল বাদি হয়ে ১ জানুয়ারি রাতে অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।