এসপিবি.এন নিউজ – অনলাইন ডেস্ক: নতুন নির্বাচন কমিশনও রক্তাক্ত পথে হাঁটতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘কাজী রকিবউদ্দিন এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে প্রধান নির্বচান কমিশনার (সিইসি)-সহ পুরো নির্বাচন কমিশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করতে যে বড় বড় বুলি ঝেড়েছেন তা বাস্তবায়নের সম্পূর্ণ উল্টো চিত্রই দেশবাসী প্রত্যক্ষ করছে।’

“আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে মানুষ পেট ভরে ভাত খায় আর ধানের শীষে ভোট দিলে মানুষ ধানের চিটা পায়” বগুড়ার সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে বিএনপি।

দলটির মতে, প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলে বেড়ায়। তিনি জনগণকে বিশ্বাস করেন না। জনগণকে তালাক দিয়েছেন। অথচ তাদের শাসনামলেই মাছ ধরার জাল পড়ে মানুষ লজ্জা নিবারন করেছে। কলাপাতা চিবিয়ে খেয়েছে। গণভবনে আয়েসী জীবন যাপনে থেকে তিনি মানুষের কান্না হাহাকার টের পাননা তাই এসব কথা বলেন।

সোমবার দুপুরে নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যা বলেন জনগণ তার উল্টোটা ধরে রাখেন। কারণ তিনি কখনোই সত্য বলেন না। মনস্তান্তিক সমস্যায় ভুগছেন। উনার মানুষিক চিকিৎসা দরকার।আরেক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, বিদায়ী নির্বাচন কমিশন ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ বলেও মন্তব্য করেন রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ‘গতকাল সিলেটে ওসমানী নগর উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে একজন কিশোর নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়েছে। এছাড়া আগামী ৬ মার্চ ২০১৭ অনুষ্ঠিতব্য দেশের মাত্র কয়েকটি উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কলাপাড়া, পাবনাসহ অন্যান্য স্থানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদেরকে মনোনয়ন পত্র দাখিলে বাধাসহ নির্বাচনী প্রচারণায় ভাংচুর, হামলা এবং প্রার্থীদের জীবননাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচনী এলাকাগুলোতে নৈরাজ্যকর ও রক্তক্ষয়ী পরিবেশ বিরাজ করছে। লাশ পড়তে শুরু করেছে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষ থেকে স্থানীয় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়গুলোতে এসব বিষয় নিয়ে অভিযোগ করা হলেও কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। নতুন সিইসি’র অধীনে কমিশনের কর্তৃত্বে নির্বাচনী রক্তাক্ত সহিংসতার তাপমাত্রা যেন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।’

খালেদা জিয়ার মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ মন্ত্রী-নেতারা বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায় নিয়ে আগাম মন্তব্য করতে শুরু করেছেন। ক্ষমতাসীনদের আজ্ঞাবাহী হয়ে আইনী প্রক্রিয়ার নামে দেশের একজন জনপ্রিয় নেত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে পারবে না। বিএনপি চেয়ারপারনের নামে যে মামলা দায়ের করা হয়েছে সেটি মিথ্যা, বানোয়াট এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য দ্বারা নির্ধারিত। এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার জনগণের কাছে কোন গ্রহণযোগ্যতা নেই।’

সরকারের মন্ত্রী এমপিদের বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, অন্য কোন দেশের কাছে নাকে খত দিয়ে মুচলেকা দিয়ে বিএনপি রাজনীতি করে না। যারা এসব করে রাজনীতি করেন জনগণ তাদের কাছে কোন বিষয় না। এজন্য বলেন, আগে উন্নয়ন পরে গণতন্ত্র।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, আবুল খায়ের ভুইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ, মাহবুবুর রহমান শামিম, সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল আউয়াল খান প্রমুখ।