Man-contraceptive-gel২০১৮ সালের মধ্যে পুরুষের জন্মবিরতিকরণ ব্যবস্থা বাজারে চলে আসবে বলে মনে করছেন মার্কিন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে পুরুষের জন্যে দুটি ব্যবস্থা রয়েছে। সঙ্গিনী যদি গর্ভধারণ না করতে চান তার জন্যে রয়েছে কনডম, নয়তো ভেসেকটমি। এবার বিজ্ঞানীরা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা করতে চলেছেন যেখানে পুরুষকে কোনো হরমোন গ্রহণ করতে হবে না।

এ পদ্ধতির নাম ভাসাজেল। এটি যৌনাঙ্গের সেই অংশে বাধা সৃষ্টি করবে যেখানে শুক্রাণু তৈরি হয়। সেখান থেকেই শুক্রাণু মূত্রনালীতে প্রবেশ করে যৌনাঙ্গ থেকে বেরিয়ে যায়। এই জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হবে।

খরগোশের ওপর ভাসাজেল ইঞ্জেকশন করে দেখা গেছে, তাদের সিমেনে ২৯ দিন ধরে কোনো শুক্রাণু নেই। একবছর ধরে খরগোশের ওপর এ পরীক্ষা করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান পার্সিমাস ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় শিকাগোর ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়েসের বিশেষজ্ঞরা এ গবেষণা পরিচালনা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি অ্যান্ড টক্সিকোলজির প্রফেসর ডোনাল্ড ওয়ালার জানান, এ পরীক্ষার ফলাফল আমাদের আশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। এটা পুরুষের দেহে দারুণ কাজ দেবে। এটি এক ধরনের জেল যা ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগের পর সেই নালীর দেয়ালে কাজ করবে যে নালী দিয়ে শুক্রাণু যৌনাঙ্গে প্রবেশ করে।

বিজ্ঞানীরা আবার খরগোশের দেহ থেকে ভাসাজেল বের করে ফেলতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের শুক্রাণুর প্রবাহ আবারো স্বাভাবিক হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠানের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এলাইন লিসার বলেন, জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতির গবেষণা খুবই ব্যয়বহুল। আশা করছি গবেষণাটি শেষ করতে সক্ষম হবো।

বিজ্ঞানীরা দুই ধরনের জন্মবিরতিকরণ জেল ১২টি খরগোশের দেহে প্রয়োগ করেন। এদের মধ্যে ১১টির দেহে কোনো শুক্রাণু খুঁজে পাওয়া যায়নি। আরেকটি প্রতিষ্ঠান এমন একটি ভাল্ব বানিয়েছে যা পুরুষের শুক্রাণুর প্রবাহ নিয়্ন্ত্রণ করতে পারবে। এ বছরই কয়েকজন পুরুষের দেহে তা প্রয়োগ করা হয়েছে।