এসপিবি.এন নিউজ – অনলাইন ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জে অপহরণের ছয়দিন পর এলেম নামের সাত বছরের এক শিশুর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ বাগবাড়ি এলাকায় ময়লা আবর্জনার স্তুপ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা নিহত এলেমের সৎ বোনের স্বামী বিল্লাল হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মৃত এলেম একরামপুর এলাকার আবদুর রাজ্জাকের ছেলে। সে নবীগঞ্জ এলাকার লাল মিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

এলাকাবাসী ও মৃতের স্বজনরা জানান, আবদুর রাজ্জাকের প্রথম স্ত্রীর সংসারের মেয়ের জামাতা বিল্লাল হোসেন বেশ কিছুদিন আগে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন সময়ে মাদক সেবনের জন্য তার শ্বশুরের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা নিতেন।

৬ মার্চ আবারও মাদক সেবনের জন্য টাকা চাইলে তার শ্বশুর আবদুর রাজ্জাক টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষুব্ধ বিল্লাল হোসেন দেখে নেবেন বলে হুমকি দেন। ওইদিন দুপুরে এলেম বাসা থেকে নিখোঁজ হলে আবদুর রাজ্জাক বিল্লাল হোসেনকে আসামি করে বন্দর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

পরদিন (৭ মার্চ) পুলিশ বিল্লাল হোসেনকে গ্রেফতার করে সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠালে আদালত দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে থাকা অবস্থায় বিল্লাল হোসেন পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এলেমকে অপহরণ থেকে শুরু করে হত্যা এবং লাশ গুমের কথা স্বীকার করেন।

সোমবার দুপুরে পুলিশ অভিযুক্ত বিল্লালের বাড়ির পার্শ্ববর্তী ময়লা আবর্জনার স্তুপ থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় অপহৃত এলেমের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে।

এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা এই হত্যাকান্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।

পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মৃত এলেমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার মাথার পেছনে এবং গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, অপহরণের দিনই মাথায় আঘাত ও শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যার পর মরদেহ বস্তায় ভরে গুম করা হয়েছিল।