হযরত আবু হোরাইরা (রাঃ) এর বর্ণনা- তিনি বলেন,রাসূল (সাঃ) বলেছেন ঃ এক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই। সে তার উপর অত্যাচার উৎপীড়ন করতে পারে না, তাকে অপমান করতে পারে না এবং হেয় প্রতিপন্ন করতে পারে না। তিনি নিজ বুকের দিকে ইশারা করে বললেন ঃ তাকওয়ার অবস্থান এখানেই,তাকওয়ার অবস্থান এখানেই,তাকওয়ার অবস্থান এখানেই। কোন লোক নিকৃষ্ট গন্য হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে। প্রতেক মুসলমানের জীবন,ধন-সম্পদ ওমান-সম্মান প্রতেক মুসলমানের কাছেই সম্ম্ানের বস্তুু।( মুসলিম)

ব্যাখ্যাঃ মুসলমানদের জীবন-যাপন সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এ হাদিসে দিক নির্দেশনা প্রদান করেছে।

১. ইসলামী ভ্রাতৃত্বের দাবি এক মুসলমান অন্য মুসলমানের উপর নিজেও অত্যাচার উৎপীড়ন করবে না এবং তাকে যালিমদের হাতেও তুলে দিবে না এবং নিজের আর্থিক, বংশীয়, দৈহিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রাধান্যের ভিত্তিতে তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও করবে না।

২. অন্তরই হচ্ছে তাকওয়ার মূল কেন্দ্রস্থল। মানুষের অন্তরে যদি তাকওয়ার বীজ বপন করা যায় এবং তাতে যদি শিকর গজাতে পারে তাহলে তার বাহ্যিক দিক ও সৎ কাজের পল্লবে সুশোভিত হয়ে উঠবে। যদি অন্তরেই তাকওয়ার নিদর্শন না থাকে,তাহলে তাকওয়ার বাহ্যিক মহড়ায় নৈতিক চরিএের পরিবর্তনে দুনিয়া এবং আখিরাতের সাফল্য আসতে পারে না।

৩.মুসলিম সমাজে কোন মুসলমানের ধন-সম্পদ ও যাবতীয় বিষয়সমূহে অহেতুক হস্তখেপ করা নিকৃষ্টতম অপরাধ বলে বিবেচিত। এ কারনে তার জন্য দুনিয়া এবং আখিরাত উভয় জীবনে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। এ ধরনের কর্মকান্ডে লিপ্ত ব্যাক্তি আল্লাহর নিকৃষ্ট বলে বিবেচিত।