এসপিবি.এন নিউজ – অনলাইন ডেস্ক: বগুড়ার বহুল আলোচিত ঘটনা কলেজের ভর্তির কথা বলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের পর মা ও মেয়েকে নির্যাতনের পর মাথা ন্যাড়া করে দেয়ার ঘটনার পর থেকে একের পর এক উঠে আসে ধর্ষক তুফানের নানা অপকর্মের কথা। এবার প্রকাশ পেল একই স্ত্রীকে পাঁচবার তালাক দিয়ে ছয়বার বিয়ে করার কাহিনী। জানা গেল সেই তুফান নাকি নিজের স্ত্রী আশা খাতুনকেই বিয়ে করেছে ছয়বার!

জানা যায়, ৯ বছরের দাম্পত্যজীবনে তুফান সরকার স্ত্রী আশাকে পাঁচবার তালাক দিয়ে পুনরায় ৬ বার বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্যকলহ লেগেই ছিল। কথায় কথায় নিজেরা মারামারি করতেন। এসব কারণে তুফান ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীকে তালাক দিত। আবার মৌলভী ডেকে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতেন। গ্রেফতারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তুফান সরকার নিজেই পুলিশকে এসব তথ্য দিয়েছে।

জানা গেছে, সর্বশেষ ছাত্রী ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে করা দুটি মামলাসহ তুফান সরকারের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ফেনসিডিলসহ একবার গ্রেফতারও হয়েছিলেন। এছাড়া ২০১৩ সালে যুবদল নেতা ইমরান হত্যা মামলারও আসামি তিনি।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তুফান সরকারের দেয়া তথ্য মতে, ভর্তির কথা বলে ওই স্কুলছাত্রীকে গাড়ি পাঠিয়ে নিজের বাড়িতে ডেকে আনে তিনি। পরে কাগজপত্র সই করার নাম করে বেডরুমে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় তুফানের পাঁচ বন্ধু পাহারায় ছিল। ধর্ষণের পর ওই মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় আতিকের সহায়তায় রক্তক্ষরণ বন্ধ করা এবং জন্মনিয়ন্ত্রক ওষুধ আনিয়ে কিশোরীকে খাওয়ানো হয়। তারপর তুফান, আতিক ও জিতু প্রাইভেট কারে কিশোরীকে বাসায় পৌঁছে দেয়। তারপর তুফান ঢাকায় যায়।

তুফান পুলিশকে আরও বলেছে, বিষয়টি তার স্ত্রী আশা জেনে যায়। ২৮ জুলাই তার স্ত্রী আশা খাতুন, তার বোন বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকি, তুফানের শাশুড়ি রুমি, তুফানের বন্ধু আতিক, দীপু, রুপম, শিমুল ও মুন্না কৌশলে ওই স্কুলছাত্রী ও তার মাকে ডেকে আনে। সেখানে মা-মেয়ের মাথা ন্যাড়া করার পাশাপাশি রড দিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের সময় তুফান নিজের বাসায় ঘুমিয়ে ছিল বলে দাবি করে।

বগুড়ার জেল সুপার মোকাম্মেল হক জানান, তুফান সরকারকে গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শনিবার দুপুরে তাকে কাশিমপুরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান তিনি।