এসপিবি.এন নিউজ – অনলাইন ডেস্ক: শুধু মিসর নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে পিরামিডের অবস্থান ঘিরে বিজ্ঞানীদের মনে রহস্যের শেষ নেই। কেন এবং কি কারণে প্রকাণ্ড এসব স্থাপনা হারানো সভ্যতাগুলো নির্মাণ করেছিল সে প্রশ্নের জবাব এখনও মেলেনি। এখনও গবেষকেরা মনে করেন মিসরে ফারাও রাজারা পিরামিড স্থাপন করেছিলেন তাদের শবাধার হিসেবে ব্যবহারের জন্য। তাহলে পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তে যেসব পিরামিড পাওয়া গেছে সেগুলো কি কারণে ব্যবহার করা হত?

এই প্রশ্নের উত্তর এতদিন না মিললেও সম্প্রতি একদল বিজ্ঞানী উত্তর খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছেন। বোসনিয়ায় অবস্থিত একটি পিরামিড পরীক্ষা করে তারা জানিয়েছেন, মহাকাশের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার উদ্দেশ্যেই মূলত পিরামিডগুলো কাজ করত।

এই পিরামিডগুলো থেকে অদৃশ্য তরঙ্গ রশ্মি নির্গত হত যা পুরো পৃথিবীতে বিরাজ করত। আর সেকারণেই পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে এই পিরামিড স্থাপন করা হয়েছিল।

পিরামিডটি পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মহাজাগতিক ইন্টারনেট ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই মূলত পিরামিডগুলো নির্মাণ করা হয়। যা পৃথিবীকে নেটওয়ার্কের মধ্যে রাখা ছাড়াও মহাকাশের দূর দূরান্তে যোগাযোগ রক্ষা করত।

তাদের দাবি, পিরামিডগুলো পৃথিবীতে পরিকল্পনা করেই নির্মাণ করা হয়েছিল। যেন প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকাতেও মহাজাগতিক তরঙ্গ রশ্মি আচ্ছাদিত করতে পারে। বোসনিয়ার ভিসোকো পিরামিডকে বলা হয় মানুষের তৈরি বিশ্বের সবচেয়ে বড় পিরামিড। যদিও মাটিতে আচ্ছাদিত থাকায় এখন পর্যন্ত অনেক বিজ্ঞানী একে পাহাড় বলেই দাবি করেন। তবে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পাহাড়টি প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি নয়। চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এমন বেশ কিছু পাহাড় নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

ভিসোকো পিরামিড পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা বলছেন, আমাদের পূর্বপূরুষেরা এটিকে মহাজাগতিক যোগাযোগ রক্ষার জন্যই ব্যবহার করতেন। তারা দাবি করেছেন, পিরামিডটির মাথায় বিশাল আকারের স্ফটিক টুপি বসানো রয়েছে যার কারণ ছিল, তরঙ্গ ছড়িয়ে দেয়া। সব কিছু দেখে তারা মনে করছেন, পূর্বপূরুষেরা টেলিপ্যাথের মাধ্যমে সে সব তথ্য গ্রহণ এবং প্রদান করতেন।

বসনিয়ার গবেষকেরা বলছেন, পৃথিবী জুড়ে স্থাপিত পিরামিডগুলো এটাই প্রমাণ করছে যে আন্ত: এবং বহির্জাগতিক যোগাযোগের জন্য পূর্ব পুরুষেরা বিশাল নেটওয়ার্ক নির্মাণ করেছিলেন। এবং এটা স্পষ্ট যে তাদের কাছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ছিল। এবং জ্ঞান বিজ্ঞানে তারা এতটাই উন্নত ছিলেন যে পৃথিবীর বাইরেও প্রাণের সন্ধান তারা পেয়েছিলেন। এবং তাদের যোগাযোগ ছিল সেখানেও।

অষ্টাদশ শতকের বিখ্যাত বিজ্ঞানী নিকোলা টেসলাও (১০ জুলাই ১৮৫৬ – ৭ জানুয়ারি ১৯৪৩) তারবিহীন তড়িৎ পরিবহণ ব্যবস্থার এমন ধারণা দিয়েছিলেন। সেসময় সবাই তাকে পাগল বললেও বর্তমান বিজ্ঞান সেই ব্যবস্থারই অনুসরণ করছে।