fuck-onএসপিবি.এন নিউজ – অনলাইন ডেস্ক: ক্যাজুয়াল সেক্স বা কোন রকমের দায়িত্ববিহীন যৌন সম্পর্ক, এই ব্যাপারটি বিশ্ব জুড়েই কমবেশি আছে। বিশেষ করে আমেরিকা বা অন্যান্য উন্নত দেশগুলোতে। এক রাতের যৌন সম্পর্ক বা অচেনা একজনের সাথে যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে যাবার হার সেসব দেশে বলাই বাহুল্য যে অনেক বেশী। সাম্প্রতিক একটি রিসার্চের ডাটা বিশ্লেষণ করে এই ব্যাপারে মিলেছে চমকপ্রদ তথ্য।

৫০০০ আমেরিকান নাগরিকের ওপরে চালানো এই রিসার্চে দেখা যায়, ৬৬% শতাংশ পুরুষ ও ৫০% নারী ২০১৪ সালে এক রাতের জন্য যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছেন। এবং এই গবেষণার লেখক anthropologist হেলেন ফিশার জানিয়েছেন যে এই ক্যাজুয়াল সেক্স আসলে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে উপকারীও প্রমাণিত হতে পারে! Nautilus-এ প্রকাশিত প্রবন্ধে হেলেন ফিশার লেখেন, দায়িত্ব বিহীন যৌন সম্পর্ক নিয়ে যতই বিতর্ক থাকুন না কেন, পরস্পরকে জানার জন্য এটা একটা ভালো সুযোগ।

তিনি আরও জানান, জনন অঙ্গে যে কোন অনুভূতি ডোপামিনের প্রভাব বাড়িয়ে দেয় আমাদের শরীরে, যা কিনা প্রেমে পড়তে উদ্বুদ্ধ করে। যৌন মিলনের চরম মুহূর্তে নিঃসৃত হরমোনগুলো আবেগীয় ঘনিষ্ঠতার সাথেও সম্পর্কযুক্ত। ফিশার আরও লেখেন, এক রাতের যৌন সম্পর্কের পর অনেক জুটিই একটি বিচিত্র সম্পর্কে আবদ্ধ হয়ে পড়েন। যে সম্পর্কে তাঁরা পরস্পরের যৌন সঙ্গী থাকেন, কিন্তু প্রেমিক-প্রেমিকা নন। পৃথিবীর সামনে তাঁদের সম্পর্কটি বন্ধুত্ব হলেও বাস্তবে বন্ধনটি যৌনতার।

ফিশারের দাবী অনুযায়ী ২০১৪ সালে ৫৮% পুরুষ ও ৫০% ভাগ আমেরিকান নারী এই ধরণের দায়িত্ব বিহীন সম্পর্কে আবদ্ধ হয়েছেন। তবে এই সম্পর্কগুলো যে একেবারেই বিফল, সেটাও নয়। রিপোর্ট অনুযায়ী ২৮% প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে এই সম্পর্কগুলো থেকেই। অর্থাৎ ফিশার বলতে চাইছেন যে এক রাতের যৌন সম্পর্ক খারাপ কিছু নয়, বরং এটা থেকে দীর্ঘ মেয়াদী সম্পর্ক তৈরি হওয়া সম্ভব।

অবশ্য ফিশারের দাবীই শেষ কথা নয়, কেননা পূর্বের গবেষণাগুলো বলছে ভিন্ন কথা। University of Virginia-র একটি গবেষণা National Marriage Project এর রিপোর্ট অনুযায়ী, যেসব জুটিরা প্রেমের সম্পর্ক হওয়ার পর যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হন, তাঁদের মাঝে বিয়ের হার অনেক বেশী। অন্যদিকে এটাও প্রমাণিত যে, যে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কে আগ্রহী নন বা সম্পর্ক করার ক্ষেত্রে ভীত, তাঁরাও এক রাতের যৌন সম্পর্কেই বেশী আগ্রহী।

আর তাই, এক রাতের যৌন সম্পর্ক বা দায়িত্বহীন যৌন সম্পর্ক যে আসলেই ভালো, এমনটা জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না। এই বিষয়টি মানুষ থেকে মানুষে পরিবর্তনশীল।

সূত্র: প্রিয় ডটকম