Screemকুঁচকে যাওয়া কিংবা কালচে ত্বকের কারণে মন খারাপ থাকে, এমন অনেক মানুষ আছেন। বিশেষ করে আমাদের দেশের মেয়েদের ত্বকের যত্ন নিয়ে সমস্যার অন্তআদি নেই। এসব সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে অনেক পণ্য আছে বাজারে। কিন্তু এসব পণ্যের মান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

গবেষকরা বলছেন, ২০১৫ সালে অ্যান্টি-এজিং (বয়স বাড়ার প্রভাবে চামড়া কুঁচকে যাওয়া) প্রতিরোধেই বিশ্বজুড়ে ভোক্তারা প্রতি বছর ১১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ব্যয় করবেন। তবে এ ব্যয় এড়িয়ে ত্বকের সুস্থতা নিশ্চিত সম্ভব।

এর আগে এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানিয়েছিলেন, কিছু খাদ্য উপাদান ত্বকের দৈনন্দিন ক্ষয়ক্ষতি সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে। ত্বকের জন্য ভালো খাবার দেহের অন্যান্য কার্যপ্রণালিতেও কার্যকর।

ভিটামিন ‘এ’: ভিটামিন ‘এ’ ত্বকের বহিঃস্তরের পাতলা আবরণটি ভালো রাখে, যা অনেকটা প্রাকৃতিক সানস্ক্রিনের কাজ করে। যাদের দেহে ভিটামিন ‘এ’র অভাব থাকবে, তাদের ত্বকের স্বচ্ছ বহিরাবরণটি ভালো থাকে না। নানা কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে নিজে নিজে তা পুনর্গঠনের সক্ষমতাও কমে যায়। এ ত্বকগুলো তুলনামূলক বেশি শুষ্ক ও কুঁচকানো থাকে। হলুদ ও এর কাছাকাছি রঙের ফলমূল এবং সবজিতে ভিটামিন ‘এ’ সবচেয়ে বেশি থাকে।

ভিটামিন ‘সি’: ভিটামিন ‘সি’ অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের মতোই। ত্বক গঠন ও তার সুস্থতা ধরে রাখতে একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান কোলাজেন উত্পন্ন করতে ভিটামিন ‘সি’র গুরুত্ব অনেক। ক্ষতিকর এরাকিডনিক এসিড উত্পন্ন করতে বাধা দেয়, যার প্রভাবে ত্বক কুঁচকে যায়। লেবু, আমলকী, কমলা, মাল্টা, সব ধরনের টক ফল, স্ট্রবেরি— এসবে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ থাকে।

ভিটামিন ‘ই’: সূর্যের বিভিন্ন ক্ষতিকর রশ্মির প্রভাব থেকে ত্বককে সুরক্ষা দিতে সবচেয়ে বেশি কাজ করে ভিটামিন ‘ই’।  তাছাড়া নানা কারণে ত্বকের বহিরাবরণের ক্ষয় রোধ করে। ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলো মেরামত করতে এবং নতুন কোষ সৃষ্টিতে ভিটামিন ‘ই’ খুব প্রয়োজন। চুল ও ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। বিভিন্ন ধরনের বাদাম, তেলবীজ, মাছ ভিটামিন ‘ই’র বড় উত্স।

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট: অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কেবল ত্বক নয়, সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্যও ভীষণ জরুরি। ক্যান্সার ও অন্যান্য ঘাতক ব্যাধি থেকেও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আমাদের বাঁচায়। বিভিন্ন খাবারে নানা ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। দেহে বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় এগুলো ভেঙে ভিটামিন ও অন্যান্য উপাদানে পরিণত হয়, যা বিভিন্ন কাজে আবশ্যক।

ফ্যাটি এসিড: বিভিন্ন ধরনের ফ্যাটি এসিড উচ্চরক্তচাপ ও হূদরোগের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি ত্বকের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতেও সাহায্য করে। মাছ বিশেষ করে বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছে ওমেগা থ্রি ও অন্যান্য ধরনের ফ্যাটি এসিড থাকে।

ত্বকের স্বার্থে কী খাব কী খাব না, সে বিষয়েও একটু সতর্ক থাকা উচিত। লো ফ্যাট দেখে খাওয়া উচিত। তাছাড়া বেশি প্রক্রিয়াজাত হয়ে আসা শর্করাজাতীয় খাবার, ভাজাপোড়া, প্রাণিজ চর্বি এড়িয়ে চলা ভালো। লো ফ্যাট দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার ত্বকের জন্যও ভালো। বিভিন্ন খনিজ উপাদানের পাশাপাশি সহজপাচ্য ভিটামিন ‘এ’ পাওয়া যায় দুধ থেকে। ফল ও সবজির বহুবিধ প্রয়োজনীয়তা নতুন করে বলার কিছু নেই। খাদ্যাভ্যাসের বাইরে পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম ত্বকের সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।