newzilandটি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টেন পর্বে গ্রুপ-২ এর শীর্ষ দল হিসেবে সেরা চারে জায়গা করে নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। আর গ্রুপ-১ এর রানার্সআপ হয়ে ইংল্যান্ড। যাদের মধ্যে একদল খেলবে ইডেন গার্ডেন্সে ৩ এপ্রিলের ফাইনালে। দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় প্রথম সেমিটি শুরু হবে বুধবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। টুর্নামেন্টের চার শীর্ষ দলের দুটি বুধবার মাঠের লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে। ফাইনালে ওঠার পরীক্ষায় এদিন নামছে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড।দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ন মরগান।

মূলপর্বে যেতে গ্রুপ-২ থেকে শীর্ষ দল নিউজিল্যান্ড ৪ ম্যাচের সবকটি জিতে পূর্ণ ৮ পয়েন্ট নিয়েই সেরা চারে জায়গা করে নিয়েছে। অন্যদিকে সেরা চারের টিকিট কাটার পথে গ্রুপ-১ থেকে ৪ ম্যাচে ৩ জয় ও ১ হারে ৬ পয়েন্ট নিয়ে সেমিতে ইংল্যান্ড। নিজ গ্রুপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের (+০.৩৫৯) সমান পয়েন্ট নিয়েও রানরেটে রানার্সআপ হয়ে কিউইদের প্রতিপক্ষ হয়েছে ইংলিশরা (+০.১৪৫)।

রানরেটে পিছিয়ে থাকায় ইংলিশদের অবশ্য সুবিধাই হয়েছে! তাতে সেমিতে শক্তিশালী স্বাগতিক ভারতকে এড়াতে পেরেছে তারা। যদিও প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ডও কম শক্তিশালী নয়। গত বছর থেকেই ধারাবাহিক সাফল্যের মধ্যে থাকা কিউইরা ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের বর্তমান রানার্সআপ। ইংল্যান্ড সেখানে বাংলাদেশের কাছে হেরে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল।

ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের দুদলেই আছেন এক ঝাঁক করে মারকুটে টি-টুয়েন্টি উপযোগী তরুণতুর্কী। ইংলিশের মূল শক্তিটা অবশ্য ব্যাটিংয়ে। জো রুট, ইয়ন মর্গান, অ্যালেক্স হেলস, জেসন রয়রা নিজেদের দিনে প্রতিপক্ষ বোলারদের কাঁপিয়ে দিতে পারেন। উইকেটরক্ষক জস বাটলারের সঙ্গে অলরাউন্ডার বেন স্টোকস মিডলঅর্ডারে ভারসাম্য এনে দিয়েছেন দলটিকে। শেষ দিকে মঈন আলির ব্যাটিংটা ইংলিশদের জন্য বাড়তি পাওয়াই, তার থেকে বরং কার্যকরী স্পিন বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে বেশ ভোগাতে ওস্তাদ মঈন। স্পিনে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরতে পারেন আদিল রশিদও। আর পেসে ঝড় তুলতে ডেভিড উইলি, ক্রিস জর্ডানরা তো আছেনই।

কিউই দলে সেখানে শুরুর ঝড় তুলতে পারেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মার্টিন গাপটিল। সঙ্গে নির্ভরতার প্রতীক হয়ে ওঠা অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন, কলিন মুনরো ও অভিজ্ঞ রস টেইলর থাকছেন। তবে নিউজিল্যান্ডের মূল শক্তি এক ঝাঁক অলরাউন্ডার। কোরি অ্যান্ডারসন, গ্র্যান্ট এলিয়ট, নাথান ম্যাককালাম, মিচেল স্যান্টেনার প্রতিপক্ষের কপালে চিন্তার বলি রেখা ছড়িয়ে দিতে পারেন। স্পিনে ইশ শোধি গত কিছুদিন ধরেই ব্যাটসম্যানদের পরীক্ষা নিয়ে চলছেন। আর পেসে মিচেল ম্যাকক্লেনেঘান তো থাকছেনই।

সব মিলিয়ে নিউজিল্যান্ড-ইংল্যান্ড শক্তিমত্তার তারতম্যে খুব একটা পার্থক্য রাখে না। গত বছর থেকেই দল দুটি দাপুটে ক্রিকেট খেলে আসছে। নির্দিষ্ট দিনে তাই যেকারো দিকেই হেলে যেতে পারে ম্যাচ। কাছাকাছি শক্তির দুদলের সেমির লড়াই তাই জমার প্রত্যাশাই থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের।

– স্পোর্টস ডেস্ক