salt industryবিদেশ থেকে ফের লবণ আমদানির চেষ্টা হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে দেশীয় লবণ শিল্প। মেকানিক্যাল লবণ মিল মালিক চক্র (অসাধু ব্যবসায়ী) সিন্ডিকেট করে বাণিজ্য মন্ত্রানালয়, ট্যারিপ কমিশন এবং শিল্প মন্ত্রানালয়কে প্রভাবিত করার মাধ্যমে ভারতীয় লবণ আমদানির পায়ঁতারা চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এখনো প্রায় ছয় লাখ মেট্রিক টন লবণ মাঠে ও গোডাউনে মজুদ থাকায় চরম আতংকের মধ্যে রয়েছে চাষীরা।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) কক্সবাজার আঞ্চলিক বিভাগের তথ্য মতে ২০১৩ সালে জেলার কক্সবাজার সদর, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, টেকনাফ ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী (আংশিক) উপজেলায় ৬৪ হাজার ১৫১ একর জমিতে লবণ চাষ করা হয়। এতে ১৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯ শত মেট্রিক টন লবণ উৎপাদন হয়েছে। সেই বছর দেশে লবণের চাহিদা দেখানো হয় ১৫ লাক ১০ হাজার মেট্রিক টন।

ওই বছরই চাহিদা পূরণ করে লবণ উদ্বৃত থাকে ১লক্ষ ২৩ হাজার ৯ শত মেট্রিক টন। সেই হিসেবে এর সাথে সংযুক্ত করা হয় ২০১২ সালে আরো ৩ লাখ মেট্রিক টন লবণ অতিরিক্ত মজুদ। চলতি ২০১৫ সালে ৫১ হাজার ৯৭০ একর জমিতে বৈরি আবহাওয়া ও নানা প্রতিকুলতার মাঝে লবন উৎপাদন হয়েছে ১২ লাখ ৮২ হাজার মেট্রিক টন। এ বছর দেশের লবণের চাহিদা নির্ধারণ করা হয় ১৬ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন। যা চাহিদার তুলনায় ৩ লাখ ৭৬ হাজার মেট্রিক টন কম।

লবণ চাষীরা অভিযোগ করেছেন, আগের তিন বছর লবণ মৌসুমে দেশে প্রায় ৬ লাখ মেট্রিক টন লবণ মজুদ রয়েছে। তা উপেক্ষা করে চলতি বছর ২০১৫ সালের ঘাটতির বিষয়টি ইস্যু করে মেকানিক্যাল লবণ মিল মালিক চক্র (অসাধু ব্যবসায়ী) সিন্ডিকেট করে বাণিজ্য মন্ত্রানালয়, ট্যারিপ কমিশন এবং শিল্প মন্ত্রানালয়কে প্রভাবিত করার মাধ্যমে দেশে ফের ভারতীয় লবণ আমদানির পায়ঁতারা চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ইতোমধ্যে অসাধু ব্যবসায়ী চক্রটি মাঠ পর্যায়ে তদারকি না করে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনকে ভুল তথ্য দিয়ে ৩ লাখ ৭৬ হাজার মেট্রিক টন লবণ বিদেশ থেকে আমদানির অনুমতি নিতে সরকারের শিল্প মন্ত্রাণালয়ের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সুত্র।

এছাড়া কক্সবাজার সদরের বিসিক শিল্প এলাকা ইসলামপুরের লবণ মিল মালিক সিন্ডিকেট লবণ আমদানীর বরাদ্দপত্র ঢাকা ও নারায়ণ গঞ্জভিত্তিক সিন্ডিকেটকে বিক্রির জন্য প্রায় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এখনো প্রায় ছয় লাখ মেট্রিক টন লবণ মাঠে ও গোডাউনে মজুদ থাকার পরও বিদেশ থেকে লবণ আমদানি করা হচ্ছে এমন খবরে হাজার হাজার প্রান্তিক চাষীর মাঝে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ লবণ চাষী সমিতির সভাপতি শহীদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, চলতিবছর বৈরী আবহাওয়ার কারনে লবণ উৎপাদন কম হলেও দেশে এ মুহুর্তে লবণ সংকট নেই। কিন্তু আগের বছরের মজুদ লবণের ব্যাপারটি কৌশলে পাশ কাটিয়ে মেকানিক্যাল লবণ মিল মালিকদের একটি পক্ষ ঘাটতির বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে বিদেশ থেকে লবণ আমদানির অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত সরকার চাষীদের স্বার্থ না দেখে অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের স্বার্থ দেখলে লবণ শিল্প রক্ষায় আমরা কঠোর আন্দোলনের কর্মসুচী দিতে বাধ্য হব।

চকরিয়াপেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য হাজি মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, বিদেশ থেকে লবণ আমদানি বন্ধে আমি ও কক্সবাজার সদর আসনের এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল এবং মহেশখালীকুতুবদিয়া আসনের এমপি আশেক উল্লাহ রফিক সংসদে জোর আপত্তি তুলেছি। আমাদের আপত্তির মুখে বাণিজ্য মন্ত্রী ওই সময় কথা দেন বিদেশ থেকে লবণ আমদানি বন্ধ থাকবে। এরপরও সরকারের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রানালয় দেশীয় লবণ শিল্প ও প্রান্তিক চাষীদের বিরুদ্ধে এ রকম কোন সিদ্ধান্ত করলে দেশের জন্য হবে বড় অশনি সংকেত।