Jibanananda Dasজীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯ – ১৯৫৪)

জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯, বরিশাল – অক্টোবর ২২, ১৯৫৪, বাংলা ৬ই ফাল্গুন, ১৩০৫ )একজন প্রতিভাবান বাঙালি কবি। তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ, মাতা কুসুমকুমারী দাশ। তিনি ছিলেন পরিবারের বড় ছেলে, তার ছোট ভাই অশোকানন্দ এবং বোন সুচরিতা। তি নি শিক্ষালাভ করেন প্রথমে বরিশাল ব্রজমোহন স্কুলে ও ব্রজমোহন কলেজে, পরে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজী সাহিত্যে ১৯২১ সালে এম. এ. ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৩০ সালে শ্রীমতী লাবন্য গুহকে বিবাহ করেন। তাঁদের দুটি সন্তা ন। ১৯৩১ সালে কন্যা শ্রীমতী মঞ্জুশ্রী এবং ১৯৩৮ সালে পুত্র শ্রী সমরানন্দের জন্ম হয়।

জীবনানন্দ দাশ সাহিত্য সমগ্র (আংশিক)-ঝরা পালক

পারিবারিক তথ্য:-

তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ, মাতা কুসুমকুমারী দাশ। বাবা সত্যান- ন্দ দাশ (১৮৬৩-১৯৪২) ছিলেন স্কুল শিক্ষক, পত্রিকা সম্পাদক এবং প্রবন্ধকার। মা কুসুমকুমারী দাশ(১৮৮২-১৯৪৮)কবিতা লি খতেন। তিনি ছিলেন পরিবারের বড় ছেলে, তার ছোট ভাই অশো কানন্দ এবং বোন সুচরিতা। তিনি শিক্ষালাভ করেন প্রথমে বরিশা ল ব্রজমোহন স্কুলে ও ব্রজমোহন কলেজে, পরে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজী সাহিত্যে ১৯২১ সালে এম. এ. ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৩০ সালে শ্রীমতী লাবণ্য গুহকে বিবাহ করেন। তাঁদের দুটি সন্তান। ১৯৩১ সালে কন্যা শ্রীমতী মঞ্জুশ্রী এবং ১৯৩৮ সালে পুত্র শ্রী সমরানন্দের জন্ম হয়।

কর্মজীবন:-

অধ্যাপনার কাজে তাঁর কর্মজীবনের শুরু ও সমাপ্তি। এম, এ, পাসের পর আইন বিষয়ে পড়ালেখা করার সময় তিনি ১৯২২ খ্রিস্টাে্দে কলকাতার ব্রাহ্মসমাজ পরিচালিত সিটি কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। ১৯২৮-এ সরস্বতী পূজা নিয়ে গোলযোগ শুরু হলে অন্যান্য কয়েকজন শিক্ষকের সংগ তাকেো ছাঁটাই করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। জী বনের শেষভাগে কিছুদিনের জন্য কলকাতার একটি দৈনিক পত্রিকা স্বরাজ-এর সাহিত্য বি ভাগের সম্পাদনায় নিযুক্ত ছিলেন। অধ্যাপনা করেছেন বর্তমান বাংলাদেশ ও ভারতের অ নেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, যার মধ্যে আছে (সিটি কলেজ, কলকাতা, ১৯২২-১৯২৮; বা গেরহাট কলেজ, খুলনা(১৯২৯; রামযশ কলেজ, দিল্লী, ১৯৩০-১৯৩১; ব্রজমোহন কলেজ, বরিশাল; ১৯৩৫-১৯৪৮; খড়গপুর কলেজ, ১৯৫১-১৯৫২; বারিষা কলেজ, ১৯৫৩ এবং হাওড়া গার্লস কলেজ, কলকাতা, ১৯৫৩-১৯৫৪)। তার কর্মজীবন মসৃণ ছিলনা আদেৌ। চাকুরীর অভাব তাকে আমৃত্যু কষ্ট দিয়েছে। একটি চাকুরীর জন্য হন্নে হয়ে তিনি দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। স্ত্রী লাবণ্য দাশ স্কুলে শিক্ষকতা করে জীবিকার অভাব কিছুটা পুষিয়েছেন। ১৯৫৪-এ অকাল মৃত্যুর সময় তিনি হাওড়া গার্লস কলেজ কর্মরত ছিলেন। দুই দফা দীর্ঘ বেকার জীবনে তিনি ইন্সুরেন্স কোম্পানীর এজেন্ট হিসাবে কাজ করেছেন এবং প্রধানতঃ গৃহশিক্ষকতা করে সংসার চালিয়েছেন। এছাড়া ব্যাবসার চেষ্টাও করেছিলেন বছরখানেক।

সাহিত্যিক জীবন

১৯১৯ সালে তার লেখা একটি কবিতা প্রথম প্রকাশিত হয়। এ্িই তার প্রথম প্রকাশিত কবিতা। কবিতাটির নাম ‘বর্ষা আবাহন’। এটি ব্রহ্মবাদী পি্রিকার ১৩২৬ বৈশাখ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। তখন তিনি শ্রী জীবনানন্দ দাশগুপ্ত নামে লিখতেন। ১৯২৭ সাল থেকে তিনি জীবনানন্দ দাশ নামে লিখতে শুরু করেন। ১৬ জুন ১৯২৫ দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ এর লোকান্তর হলে তিনি ‘দেশবন্ধুর প্রয়াণে’ শিেোনামে একটি কবিতা লিখেছিলেন যা বং ্গবাণী পত্রিকার ১৩৩২ শ্রাবণ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। তবে দীনেশরঞ্জন দাস সম্পাদিত কল্লোল পত্রিকায়, ১৩৩২ (১৯২৬ খৃ) ফাল্গুন সংখ্যায় তার ‘নীলিমা’ শীর্ষক কবিাতটি প্র কাশিত হলে আধুনিক বাংলা কবিতার ভূবনে তাৎর অন্নপ্রাশন হয়। তাঁর জীবদ্দশায় তার ৭টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। তার প্রথম প্রকাশিত ঝরাপালক শীর্ষক কাব্যগ্রন্থে তার প্রকৃত কবিত্ব শক্তি ফুটে ওঠেনি। বরং কাজী নজরুল ইসলাম, েোহিতলাল মজুমদার ও সত্যেন দত্তের প্রকট প্রভাব প্রত্যক্ষ হয়। তবে দীর্ঘ ব্যবধানে প্রকাশিত দ্বিতীয় কাব্য সংকলন ধূস র পাণ্ডুলিপি-তে তার স্বকীয় কাব্য কেৌশল পরিস্ফুট হয়ে ওঠে। শেষের দিককার কবিতায় অর্থনির্মলতার অভাব ছিল। সাতটি তারার তিমির প্রকাশিত হওয়ার পর তার বিরূদ্ধে দু বোর্ধ্যতার অভিযোগ ওঠে। নিজ কবিতার অপমূল্যায়ন নিয়ে জীবনানন্দ খুব ভাবিত ছিলে ন। তিনি নিজেই স্বীয় রচনার অর্থায়ন করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিলেন যদিও শেষাবধি তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তিনি নিজেই নিজ রচনার কড়া সমালোচক ছিলেন। তাই সাড়ে আট শত কবিতার বেশী কবিতা লিখলেও তিনি জীবদ্দশায় মাত্র ২৬২টি কবিতা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ও কাব্যসংকলরন প্রকাশ করতে দিয়েছিলেন। এমন কি রূপসী বাংলার সম্পূ র্ণ প্রস্তুত পাণ্ডুলিপি মজুদ থাকলেও তা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন নি জীবনানন্দ দাশ। এ কাব্যগ্রন্থটির নাম দিয়েছিলেন বাংলার ত্রস্ত নীলিমা যা তার মৃত্যুর পর আবিষ্কৃত এবং রূপসী বাংলা প্রচ্ছদনামে প্রকাশিত হয়। আরেকটি পাণ্ডুলিপি আবিষ্কৃত হয় মৃত্যু পরবর্তীকা লে যা বেলা অবেলা কালবেলা নামে প্রকাশিত হয়।

স্বীকৃতি ও সমালোচনা:-

জীবদ্দশায় অসাধারণ কবি হিসেবে পরিচিতি থাকলেও তিনি খ্যাতি অর্জন করে উঠতে পা রেন নি। এর জন্য তার প্রচার বিমুখতাও দায়ী। তিনি বাংলা ভাষায় আধুনিক কবিতার পথিকৃতদের একজন। জীবনানন্দ দাশ এর জীবন এবং কবিতার উপর প্রচুর গ্রন্থ লেখা হ য়েছে এবং এখনো হচ্ছে, বাংলা ভাষায়। এর বাইরে ইংরেজীতে তার উপর লিখেছেন, ক্লি নটন বি সিলি, ‌‌এ পোয়েট এর্পাট‌‌ নামে। ইংরেজী ছাড়াও ফরাসীসহ কয়েকটি ইয়ারোপীয় ভাষায় তার কবিতা অনূদিত হয়েছে। তিনি যদিও কবি হিসেবেই সমধিক পরিচিত কিন্তু মৃত্যুর পর থেকে ২০০৬ খৃস্টাব্দ অবধি তার যে বিপুল পাণ্ডুলিপিরাশি উদঘাটিত হয়েছে তার মধ্যে উপন্যাসের সংখ্যা ১৪ এবং গল্পের সংখ্যা শতাধিক।

গ্রন্থতালিকা

কাব্যগ্রন্থ:- ঝরা পালক(১৯২৮),ধুসর পাণ্ডুলিপি(১৯৩৬),বনলতা সেন(১৯৪২),মহাপৃথিবী(১৯৪৪), সাতটি তারার তিমির(১৯৪৮),শ্রেষ্ঠ কবিতা(১৯৫৪),রূপসী বাংলা(১৯৫৭),বেলা অবেলা কালবেলা(১৯৬১),আলো পৃথিবী(১৩৮৯ বাংলা)

প্রবন্ধগ্রন্থ:-কবিতার কথা (১৯৫৫)

উপন্যাস:-সুতীর্থ,মাল্যবান(১৯৭৩), চারজন

গল্পগ্রন্থ:-জীবনানন্দ দাশের গল্প(১৩৭৯ বাংলা)

পুরস্কার:-

বনলতা সেন(১৯৫২)নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলন কর্তৃক এবং জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা(১৯৫৪)ভারত রাষ্ট্র কতৃক শ্রেষ্ঠ বাংলা বই এর তালিকায় পুরস্কৃত হয় বলে জানা যায়।

মৃত্যু:-

১৪ই অক্টোবর, ১৯৫৪ তারিখে কলকাতার বালিগঞ্জে এক ট্রাম দুর্ঘটনায় তিনি আহত হন ।ট্রামের ক্যাচারে আটকে তার শরীর দলিত হয়ে গিয়েছিল। ভেঙ্গে গিয়েছিল পাঁজরের হাড় ।চিৎকার শুনে ছুটে এসে নিকটস্থ চায়ের দোকানের মালিক চূণীলাল এবং অন্যান্যরা তা কে উদ্ধার করে।তাকে ভর্তি করা হয় শম্ভূনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে। এ সময় ডাঃ ভূমেন্দ্র গুহ সহ অনেক তরুণ কবি জীবনানন্দের সুচিকিৎসার জন প্রাণপণ চেষ্টা করেছিলেন। কবি -সাহিত্যিক সজনীকান্ত দাশ এ ব্যাপারে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁর অনুরোধেই প শ্চিম বঙ্গ-এর প্মুখ্য মন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় কবিকে দেখতে এসেছিলেন এবং আহত ক বির সুচিকিৎসা নিশ্চিত হয়েছিল। এ সময় স্ত্রী লাবণ্য দাশকে ক্বদাচিৎ কাছে দেখা যায়। তিনি টালিগঞ্জে সিনেমার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। জীবনানন্দের অবস্থা ক্রমশঃ জটিল হতে থা কে। শেষ পর্যন্ত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন কবি। চিকিৎসক ও সেবিকাদের সকল প্রচেষ্টা বিফলে দিয়ে ২২শে অক্টোবর, ১৯৫৪ তারিখে রাত্রি ১১ টা ৩৫ মিনিটে কলকাতার শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। ধারণা করা হয় আত্মহত্যাস্পৃহা ছিল দুর্ঘটনার মূল কারণ। জীবনানন্দ গবেষক ডাঃ ভূমেন্দ্র গুহ মনে করেন জাগতিক নিঃসহায়তা কবি কে মানসিকভাবে কাবু করেছিল এবং তাঁর জীবনস্পৃহা শূন্য করে দিয়েছিল। মৃত্যু চিন্তা কবির মাথায় দানা বেঁধেছিল। তিনি প্রায়ই ট্রাম দুর্ঘটনায় মৃত্যুর কথা ভাবতেন। গত এ ক শত বৎসরে ট্রাম দুর্ঘটনায় কোলকাতায় মৃত্রূর সংখ্যা মাত্র একটি। আর তিনি হলেন জীবনানন্দ।