রাজধানীবাসীর কাছে প্রাণ খুলে দম নেওয়ার স্থান বলতে ‘বেগুনবাড়ি খালসহ হাতিরঝিল সমন্বিত উন্নয়ন’ প্রকল্পই প্রধান। প্রকল্প এলাকাটি উদ্বোধন ও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয় ২০১৩ সালের ২ জানুয়ারি। তবে এখনও সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়নি প্রকল্পের কাজ।

এ প্রকল্পের আওতায় এবার হাতিরঝিলের জলে দেখা যাবে ওয়াটার ট্যাক্সি। সঙ্গে সার্কুলার বাস ও থিয়েটারও যুক্ত হচ্ছে হাতিরঝিল প্রকল্পে।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) সূত্র জানায়, নগরবাসী হাতিরঝিলে যাতে আরও বেশি বিনোদন পায় সেই লক্ষ্যে স্বচ্ছ পানিতে চলবে ওয়াটার ট্যাক্সি। এর চারপাশে বিনোদনপ্রেমীদের যাতায়াত সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সার্কুলার এসি ও নন এসি বাস চালু করা হবে। একইভাবে ধানমণ্ডি লেকের রবীন্দ্র সরোবর মঞ্চের আদলে থিয়েটার নির্মাণ করা হবে, যেখানে একসঙ্গে প্রায় আড়াই হাজার দর্শনার্থী নানা ধরনের অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন।

এছাড়া ঝিলের পানির গুণগত মান ঠিক রাখার জন্য ২০টি ফোয়ারা নির্মাণ করা হচ্ছে। এজন্য ইউলুপ নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক কাজে ৮ দশমিক ৯ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এখানে ১৫ তলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিট নির্মাণ করা হবে।

এ বিষয়ে হাতিরঝিল প্রকল্পের পরিচালক মো. জামাল আক্তার ভূঁইয়া স্পুক বুক ডটনেট কে বলেন, আরও নান্দনিক রুপে নগরবাসীর সামনে আসছে হাতিরঝিল প্রকল্প। ঝিলের জলে ওয়াটার ট্যাক্সি চলবে। এছাড়া চারপাশে সার্কুলার বাস চালু করবো। থিয়েটার নির্মাণ করা হবে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী চার মাসের মধ্যেই এ কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের চারপাশ সার্কুলার বাস চালু করার ফলে বিনোদনপ্রেমীরা খুব সহজেই হাতিরঝিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় আড়াই হাজার দর্শনার্থী ধারণ ক্ষমতার একটি থিয়েটার নির্মাণ করা হবে।

জুন ২০১৫ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল কিন্তু ডিসেম্বর ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ সময়ের মধ্যে কাজগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ২০টি ফোয়ারা স্থাপন করার পাশাপাশি ৪টি ঘাস কাটার যন্ত্রও কেনা হবে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির চতুর্থ সংশোধনের জন্য শেরে বাংলানগরে অবস্থিত পরিকল্পনা কমিশনের উপ-একনেক (পিইসি) সভায় ওঠানো হয়। এরপর সময় বাড়ানো হয় প্রকল্পটির।

জুলাই ২০০৭ সালে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন কাজ শুরু করে রাজউজ, ঢাকা ওয়াসা ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর। একে একে আটটি বছর পেরিয়ে গেছে। সর্বশেষ জুন ২০১৫ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। চতুর্থবারের মতো ডিসেম্বর ২০১৬ সাল নাগাদ সময় বাড়ানো হয়েছে হাতিরঝিল প্রকল্পের। বর্তমানে চারটি সংস্থা যৌথভাবে বৃহৎ এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। সেগুলো হলো- রাজউক, এলজিইডি, ঢাকা ওয়াসা এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন (এসডব্লিউও)।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র আরও জানায়, প্রকল্পটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য চতুর্থবারের মতো সময় বাড়ানো হলেও ব্যয় বাড়ার জন্য অতিরিক্ত অর্থের আবেদন করা হয়নি। প্রকল্প ব্যয় ২ হাজার ২৩৭ কোটি টাকাই থাকছে।

তবে এর আগে তিনবার প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো হয়েছিল। মূল প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা। মূল প্রকল্প থেকে প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। এরপর দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা। দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় সংশোধনীতে প্রকল্পের অতিরিক্ত ব্যয় বাড়ে ২৬৬ কোটি টাকা।

বর্ধিত সময়ে প্রকল্পের নিরাপত্তা ও সৌন্দর্য রক্ষার জন্য সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করার হবে। প্রকল্প এলাকায় ১০টি পাম্পও নির্মাণ করা হবে।

হাতিরঝিলে ময়লা আবর্জনার জন্য পানি নোংরা হচ্ছে। এতে করে পানি থেকে বের হচ্ছে বিকট গন্ধ। বিনোদনপ্রেমীরা সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে হাতিরঝিলের পানির বিষয়ে নানা ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য করে থাকেন। এর প্রধান কারণ প্রকল্প এলাকার খাল দিয়ে বিভিন্ন এলাকার ভাসমান ময়লা হাতিরঝিলকে দূষিত করে। এবার সেটাও রোধ করা হবে। খালে যেন ময়লা না জমে সেজন্য স্পেশাল ডাইভারশন স্ট্রাকচারের (এসএসডিএস) মুখে ৪টি মেকানিক্যাল স্ক্রিন স্থাপন করা হবে। খালের পানির প্রবাহ যাতে বাধা সৃষ্টি না হয় সে বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এতে করে বিনোদনপ্রেমীরা দুর্গন্ধমুক্ত পরিবেশে হাতিরঝিলে প্রাণ খুলে ঘুরতে পারবেন। এছাড়া বর্ধিত সময়ে বাড়তি অঙ্গ যুক্ত হওয়ায় হাতিরঝিল আরও দৃষ্টিনন্দন হবে বলেও জানায় রাজউক।