happy-motherমাতৃত্ব নারী জীবনের এক চরম সুখ। একটি নতুন অধ্যায়। কথায় আছে, একটি সন্তানের জন্ম দেওয়ার পরে মায়েরও জন্ম হয়। একটি নতুন প্রাণের জন্ম দেওয়া খুব সহজ কথা নয়। সামান্য অসাবধানতা প্রাণ নিতে পারে গর্ভবতী মা ও শিশুর। তাই গর্ভধারণের পরে দরকার উপযুক্ত যত্ন।গর্ভধারণে একটি সমস্যা অনেক মহিলার ক্ষেত্রে দেখা যায় যা একটোপিক প্রেগনেন্সি নামে পরিচিত।

মনে রাখবেন একটোপিক প্রেগনেন্সিতে গর্ভবতী মহিলার প্রান নাশেরও আশঙ্কা থাকে। এই একটোপিক প্রেগনেন্সি কি? কি করেই বা বুঝবেন একটোপিক প্রেগনেন্সি হয়েছে কি না? হলে কি করবেন? খোঁজ দিলেন স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ শোভন দেব।

১। একটোপিক প্রেগনেন্সি কি?

ডঃ দেব – জরায়ুর বাইরে লোয়ার আবডমেনের অন্য যে কোনও স্থানে ভ্রূণ তৈরি হলে তাকে একটোপিক প্রেগনেন্সি বলা হয়ে থাকে। ৯৭ শতাংশ একটোপিক প্রেগনেন্সি দেখা যায় ফ্যালোপিয়ান টিউবের মধ্যে। এক শতাংশের কম একটোপিক প্রেগনেন্সি দেখা যায় ওভারিতে। আসলে ভ্রুণের তৈরি হয় ফেলোপিয়ান টিউবেই৷ তবে টিউবের সঙ্গে জরায়ুর যে সংযোগ রয়েছে সেই পথে কোনও ক্রমে সুগম না হলে ভ্রুণ জরায়ুতে যেতে পারে না৷ ফলে সেটি ফেলোপিয়ান টিউবের মধ্যেই বাড়তে থাকে৷ একেই মূলত একটপিক প্রেগনেন্সি বলা হয়৷

২। কোন বয়সের মহিলাদের মধ্যে একটোপিক প্রেগনেন্সি বেশি দেখা যায়?

ডঃ দেব – সাধরণত ২২ থেকে ৩০ বছরের মহিলাদের মধ্যে একটোপিক প্রেগনেন্সি বেশি দেখা যায়।

৩। একটোপিক প্রেগনেন্সির কি প্রভাব পরে মা ও শিশুর ওপর?

ডঃ দেব – একটোপিক প্রেগনেন্সি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ফ্যালোপিয়ান টিউবে হয়। ফ্যালোপিয়ান টিউব খুব সরু হয়। ফলে ভ্রূণের বড় হয়ে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত পরিমান জায়গা সেখানে থাকে না। কিন্তু ভ্রূণ বাড়তে থাকে। ফলে এক সময় ফ্যালোপিন টিউব ফেটে যায়। সেক্ষেত্রে মায়ের শরীরে যদি অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণ হয় তখন তাকে বাঁচানো মুশকিল হয়। তবে যদি শুরুতেই ফ্যালোপিন টিউব ফাটার আগেই যদি একটোপিক প্রেগনেন্সি ধরা পরে যায় তাহলে মৃত্যুর ঝুঁকি কম হয়।

৪। একটোপিক প্রেগনেন্সির লক্ষণ কি?

ডঃ দেব – একটোপিক প্রেগনেন্সির লক্ষণ প্রেগনেন্সির থেকে খুব আলাদা কিছু হয় না প্রথম দিকে। তবে টিউব ফেটে গেলে রক্তপাত, হঠাৎ মাথা ঘুরে পরে যাওয়া, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এইসব সমম্যা দেখা দিতে পারে।

৫। একটোপিক প্রেগনেন্সি বোঝার উপায় কি?

ডঃ দেব – প্রথমবার  পিরিয়ড মিস হওয়ার পরে  ইউরিনে প্রেগনেন্সি টেস্ট করে দেখতে হবে। যদি প্রেগনেন্সি এসে থাকে তাহলে আলট্রা সনোগ্রাফি করে ভ্রুণের অবস্থা দেখে নিতে হবে। একটোপিক প্রেগনেন্সি বোঝার সব থেকে ভালো উপায় হল লোয়ার আবডোমেনের আলট্রা সোনগ্রাফি।ectopic-preagnancy

সাধরণ প্রেগনেন্সিতে এইচসিজি হরমোনের মাত্রা দুদিনে দ্বিগুণ হয়। কিন্তু একটোপিক প্রেগনেন্সির ক্ষেত্রে এই হরমোনের মাত্রা বাড়তে বেশি সময় নেয়। ফলে রক্ত পরীক্ষায় এই হরমোন স্বাভাবিক মাত্রায় না বাড়লে অতি অবশ্যই সোনগ্রাফি করাতে হবে।

৬। কী কী কারণে একটোপিক প্রেগনেন্সি হয়?

ডঃ দেব – পেলভিক ইনফেকশন থাকলে একটোপিক প্রেগনেন্সি হতে পারে। লাইগেশন অপারেশন ব্যর্থ হলে একটোপিক প্রেগনেন্সি হতে পারে। গর্ভনিরোধক কপার টিউব ব্যবহার করলে অথবা আগে গর্ভপাত করালে একটোপিক প্রেগনেন্সি হওয়ার সম্ভবনা থাকে।

৭। একটোপিক প্রেগনেন্সির চিকিৎসা কি?

ডঃ দেব – একটোপিক প্রেগনেন্সি প্রথমে ধরা পরলে মাকে মনিটরিংয়ে রাখতে হবে। হরমোন ১০০০ নিচে থাকলে এবং ফ্যালপিন টিউব ৩.৫ থেকে ছোট থাকলে ভ্রূণ নিজেই ইউটেরাসে নিজের জায়গায় ফিরে যেতে পারে। তারপরে আর কোনও সমস্যা থাকে না।

যদি হরমোন ৩০০০ এর কম থাকে, ভ্রূণের হার্টবিট না থাকে এবং ফ্যালপিন টিউব ৩.৫ সেমির কম থাকে, ড্রাগস দিয়ে, ইঞ্জেকশন দিয়ে অথবা ল্যাপালোস্কপি করা হয়। কিন্তু ফ্যালপিন টিউব ফেটে গেলে অপারেশন করতেই হয়।

৮। একটোপিক প্রেগনেন্সিতে ফ্যালপিন টিউব ফেটে যাওয়ার সম্ভবনা কোন সময় বেশি?

ডঃ দেব – একটোপিক প্রেগনেন্সির ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে ফ্যালপিন টিউব ফেটে যাওয়ার সম্ভবনা সব থেকে বেশি।

৯। বর্তমানে একটোপিক প্রেগনেন্সির পরিমান কি বেড়েছে?

ডঃ দেব – হ্যাঁ। আসলে একটোপিক প্রেগনেন্সি আগে ধরা পরত না। এখন মানুষ সচেতন হওয়ায় এখন একটোপিক প্রেগনেন্সি ধরা পরে বেশি। আগের তুলনায় একটোপিক প্রেগনেন্সি চার গুন বেড়েও গিয়েছে যদিও। তবে মৃত্যুর আশঙ্কা আগের থেকে অনেকটাই কমেছে।

অনুলিখন: পৌলমী ঘোষ৷

misskolkata.kolkata24x7.com