এসপিবি.এন নিউজ – অনলাইন ডেস্ক: কন্ট্রাসেপটিভ পিল নিয়মিত খেলে কি সন্তানধারণে সমস্যা হতে পারে? জেনে নিন। এছাড়া আপনার মাসিক যদি অনিয়মত থাকে তাহলে কি আপনার বাচ্চা নিতে সমস্যা হবে। উত্তর দিয়েছেন কনসালটেন্ট গাইনকোলজিস্ট ডা. রঞ্জিত্ চক্রবর্তী। ফোনঃ ০১৯১২৬১৩৩৭৪। স্তনের বোটা ভেতরে ঢুকে গেলে কি চিকিৎসা নিবেন জেনে নিন।

কন্ট্রাসেপটিভ পিল নিয়মিত খেলে কি সন্তানধারণে সমস্যা হতে পারে? দেখে নিন দুটি সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ। নিজের এমন সমস্যা থাকলে দেরী না করে ডাক্তার দেখান। পরামর্শ দিয়েছেন কনসালটেন্ট গাইনকোলজিস্ট ডা. রঞ্জিত্ চক্রবর্তী। ফোনঃ ০১৯১২৬১৩৩৭৪

প্রশ্ন: আমার বয়স ৩২ বছর। দু’বছর আগে বিয়ে হয়েছে। আগামী দু’বছর মা হওয়ার কথা ভাবছি না। আমি নিয়মিত কন্ট্রাসেপটিভ পিল  (Contraceptive Pill)খাই। এই ধরনের পিল রেগুলার খেলে কি সন্তানধারণে সমস্যা হতে পারে?

উত্তর: প্রথমত আপনাকে নিয়মিত চেক আপের মধ্যে থাকতে হবে। আপনি একবার আলট্রা সাউন্ড, হরমোন প্রোফাইল, লিভার ফাংশন টেস্ট করিয়ে নিন এবং ডাক্তারের সঙ্গে কনসাল্ট করুন। উনি আপনার রিপোর্ট দেখে বলে দিতে পারবেন পিল কন্টিনিউ করা উচিত হবে কি না।

প্রশ্ন: আমার বয়স ২১ বছর। ১৬ বছর বয়েসে পিরিয়ড হয়। আমার পিরিয়ড খুব অনিয়মিত। প্রতি মাসেই নির্দিষ্ট দিনের সাত আট দিন পরে পিরিয়ড হয়। এমনকী, দু’ মাসের গ্যাপও হয়ে যায়। আমার প্রথম থেকেই এই সমস্যা রয়েছে। এটা কি কোনও অসুখের লক্ষণ?

উত্তর: এই ধরনের সমস্যা একবারেই নেগলেকট করা উচিত নয়। আপনার সিমটম শুনে মনে হচ্ছে পলিসিস্টিক ওভারি (Polycystic Ovary) হয়ে থাকতে পারে। তাই আপনি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আলট্রা সোনোগ্রাফি, হরমোন প্রোফাইল পরীক্ষা করিয়ে নিন এবং কোনও গাইনিকলজিস্টের সঙ্গে পরামর্শ করুন। প্রয়োজনে আপনাকে লাইফস্টাইল চেঞ্জের উপর জোর দিতে হতে পারে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে নারীর একান্ত সমস্যাগুলো এখন সমাধানযোগ্য। মেয়েলী সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসা আমাদের দেশে এখনো লজ্জার বিষয় হিসবে গণ্য করা হয়। বলা বাহুল্য যে সুশিক্ষার অভাবেই মানুষের মনে এমন ধারণার সৃষ্টি হয়। অসুস্থতা একান্ত গোপনীয় হলেও সেটা অসুস্থতা। সমস্যা বড় আকার ধারণ করার আগে তার প্রতিকার করা জরুরী।

বয়োসন্ধিতে স্তনের পরিপূর্ণতা ও বৃদ্ধির সময় অনেক মেয়ের স্তনের বোটা (Nipple) স্তনের ভিতরের দিকে ঢুকে যায়। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই শুধু একপাশের স্তন এই ধরনের সমস্যায় পরে। এর জন্য বিশেষ কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। সাধারণত গর্ভধারন অথবা দুগ্ধদানের সময় নিজে নিজেই এই সমস্যা ভালো হয়ে যায়। যদি দুগ্ধদানের সময় এই সমস্যা ভালো না হয়ে যায় সেক্ষেত্রে তা শিশুকে দুগ্ধদানে বাধা সৃষ্টি করে। একধরনের মেকানিকাল সাকশন ডিভাইস ব্যবহার করে এই সমস্যা থেকে পরিত্রান পাওয়া যেতে পারে। তাতেও কাজ না হলে কসমেটিক সার্জারির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব কিন্ত এতে অনেক সময় স্তনের ডাক্ট কেটে যেতে পারে এবং তখন নতুন সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

পরিণত বয়সে নতুন করে কারো স্তনের বোটা ভিতরে ঢুকে যাওয়া স্তনের আভ্যন্তরিন জটিল কোনো সমস্যা নির্দেশ করে থাকে। ডাক্ট এক্টেশিয়া, মাসটাইটিস বা টিউমার হলে এমনটি হতে পারে। অনেক সময় ক্যান্সার হলেও নতুন করে স্বাভাবিক স্তনের বোটা ভিতরের দিকে ঢুকে যেতে পারে। তাই পরিণত বয়সে নতুন করে এই সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের স্মরনাপন্ন হতে হবে।

-হেল্থ বাংলা ডট কম