এসপিবি.এন নিউজ – অনলাইন ডেস্ক: নরওয়ের একটি বাসের ছবি নিয়ে বিশ্বব্যাপী তোলপাড় উঠেছে। দেশটির অভিবাসন বিরোধী একটি গ্রুপের ফেসবুক পেইজে ওই ছবিটি শেয়ার দেয়া হয়েছিল যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিশ্বব্যাপী ছবিটি প্রচুর শেয়ার হয়। ছবিটি ছিল একটি খালি বাসের।

জোহান স্লাত্তাভিক নামের এক ব্যক্তি ছবিটি পোস্ট করে জিজ্ঞেস করেছিলেন “এটি দেখে মানুষ প্রথমে কী মনে করবে?” এমন ব্যক্তির প্রশ্নের জবাবে ব্যাঙ্গাত্ম অনেক পোস্ট আসতে শুরু করেছিল।

“ট্রেডিং বলেন, প্রথমে দেখে মনে করেছিলাম এখানে সব বোরকা পরা নারী বসে আছে। পরে দেখি এগুলো সব চেয়ার। নারীরা যে বোরকা পড়াটা বিপজ্জনক তা এখনো সবাই মনে করে” -লিখেছিলেন একজন। আরেকজন লিখেছিলেন “আহা, অসহায় নারী। তারা দাস”।

স্লাত্তাভিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কোনো সাড়া পায়নি বিবিসি। কিন্তু ওয়াশিংটন পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, তিনি সে সময় একঘেয়ে সময় কাটাচ্ছিলেন আর সে কারণে ওই ছবিটি পোস্ট করে তিনি দেখতে চেয়েছিলেন মানুষ তা দেখে কী প্রতিক্রিয়া দেয়।

সিন্ড্রে বেয়ার নামে এক ব্যক্তি যখন ওই ছবিটি শেয়ার করে তখন সেটি আরো বেশি মানুষের দৃষ্টি আকষর্ণ করে। একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কাজ করেন মি: বেয়ার। ওই গ্রুপটির সদস্য হয়ে ছবিটি শেয়ার দেয়া খুব সহজ কাছ ছিল বলে বিবিসিকে জানান তিনি।

“আমি এমন একটি ছবি দেখে ভেবেছিলাম এ ধরনের কনটেন্ট শেয়ার করে প্রতিক্রিয়া জানানোর এটা একটা সুযোগ। প্রথমে ভেবেছিলাম মি: স্লাত্তাভিক মজা করার জন্য পোস্টটি দিয়েছেন। কিন্তু এটি যখন পাবলিক হয়ে যায় তখন দেখলাম ওই গ্রুপটি তা নিয়ে অখুশী ছিল। খালি বাসের সিটকে তারা বোরকা পরিহিত নারী মনে করেছে এই ভুলের কারণে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিদ্রূপ করা হচ্ছিল” বিবিসিকে বলে মি: বেয়ার।

স্লাত্তাভিক মি: বেয়ারের পোস্টে মন্তব্যও করেছেন এই বলে যে তিনি কখনো ভাবেননি তার পোস্টটি নিয়ে এভাবে কেউ কখনো চিন্তা করবে এবং এটাকে যে “অভিবাসন নিয়ে সমালোচনা ও অন্ধ বর্ণবাদের বহি:প্রকাশের একটি মাধ্যম ধরা হবে সেটিও আমি বুঝিনি”।

যে গ্রুপে ওই ছবিটি পোস্ট করা হয় সেই গ্রুপটি পর্যালোচনা করে মি: বেয়ার বলছেন “গ্রুপটা কিছুটা গোলমেলে মনে হয়েছে। তারা প্রচুর ভুয়া খবর শেয়ার দেয়”।

ওই গ্রুপের বাইরে যখন ছবিটি শেয়ার হতে শুরু করলো অনেকে টুইটারে তাদের নিজস্ব মতামত দিতে শুরু করলেন।

জার্মানির একজন যেমন মন্তব্য করেন “ডানপন্থীরা এখন বাসের সিটের মাধ্যমে দেখবেন জাতির হুমকি”। অন্যদিকে ইতালির এক ব্যক্তি এই পোস্ট নিয়ে বলেন “নারীদের বোরকার ওপর আক্রমণ, কিন্তু এটাতো শুধুমাত্র বাসের সিট”।

সূত্র : বিবিসি