Bonsaiনগর সভ্যতার এই যুগে ক্রমেই যেন আমাদের মাঝ থেকে সবুজের ছড়াছড়ি কমে যাচ্ছে। শহর থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে গাছের ছায়ায় শোভিত উদ্যানগুলো। রাস্তার আশেপাশের গাছগুলোও যেন মানুষের অবহেলা আর অযত্নে হারিয়ে ফেলছে তাদের শোভা। কিন্তু মানুষ এখনও সবুজ প্রিয়। সভ্যতার সাথে তাল মিলাতে গিয়ে একদিকে যেমন গাছের অযত্ন চোখে পড়ে, ঠিক তেমনি আবার গাছের শোভা প্রকৃতি থেকে দিন দিন কমে যাবার কারনে, মানুষ এখন গাছের শভাকে তার বাসা বাড়িতে স্থান দিচ্ছে।

তাই সময়ের তালে তালে মানুষ তাদের নিজেদের বাড়িতেই গড়ে তুলছে, ছোট ছোট গাছের বাগান। এমনই গাছের তালিকায়, বনসাইয়ের নাম খুবই জনপ্রিয়। ঘরের শোভা বাড়াতে বনসাই হতে পারে একটা উৎকৃষ্ট মাধ্যম। যা আমাদের বাসা বাড়ির সাথে সাথে আমাদের মনেকেও রাঙিয়ে তুলবে সবুজের সৌন্দর্যে।

বনসাই মূলত একটি জীবন্ত শিল্পকর্ম বলে পরিচিত। প্রাচীন চীনা শব্দ ফেনজাই থেকে জাপানি বনসাই শব্দের উৎপত্তি। ২৬৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৪২০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী চীন সাম্রাজ্যের সময়কার লেখালেখিতে প্রথম ফেনজাই শব্দের দেখা মেলে। প্রায় দুই হাজার বছর আগে সুদূর চীনে বনসাই শিল্পের আবির্ভাব ঘটে। এরপর এটি ছড়িয়ে যায় জাপান, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে। বর্তমানে এটি জায়গা করে নিয়েছে আমাদের অন্দরমহলেও।

বনসাই আপনার ঘরের ড্রইংরুমে অথবা বারান্দায় থাকা বৃক্ষ, যা আকার-আয়তনে খুবই ছোট কিন্তু আকৃতি বিশাল বৃক্ষের মতো। এই বৃক্ষের শরীরের সর্বত্রই বয়সের চিহ্ন থাকে। নানান ধরনের নানান স্টাইলের বনসাই পৃথিবীতে থাকলেও, পাঁচ ধরনের স্টাইল সবচেয়ে বেশী প্রচলিত। ফরমাল আপরাইট, ইনফরমাল আপরাইট, কাসকেড, স্পান্টিং, রুটওভার রক। বনসাইের জন্য উপযোগী বৃক্ষ বট, চায়না বট, তমাল, কদবেল, শিমুল, তেঁতুল, বাগানবিলাস, ছাতিম, হিজল, নিম, অর্জুন, কড়ই, দেবদারু, হরীতকী, রঙ্গন, বাউবাব, বাবলা, বকুলসহ আরও অনেক গাছ।

বনসাইয়ের আকৃতি মূলত তিন ধরনের হয়,

* ১০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত স্মল শেপ,

* ১০ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত মিডিয়াম শেপ,

* ২৫ থেকে ৪৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লার্জ শেপ।

বনসাই বেশ দীর্ঘমেয়াদি একটি প্রক্রিয়া। এর যত্ন করাও বেশ কঠিন। সবসময় বনসাইকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার মাঝে রাখতে হয়। এবং এর যত্ন নিতে সবধরনের পোকামাকড়ের আক্রমন থেকে একে দূরে রাখতে হবে।

গাছর বয়স ও গঠনের ওপর বনসাইয়ের দরদাম নির্ভর করে। দেশের বাজারে ৫০০ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বনসাই পাওয়া যায়। বনসাই প্রদর্শনী, কৃষিমেলা, বৃক্ষমেলা এমনকি বনসাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে বনসাই সংগ্রহ করতে পারেন। যারা বনসাই করেন, তাদের কিছু সংগঠনও আছে। বাংলাদেশ বনসাই সোসাইটি, রাজশাহী বনসাই সোসাইটি নামের বেশ কয়েকটি সংগঠন রয়েছে। এসব সংগঠনের মাধ্যমে বনসাই সংগ্রহ করা যায়। সংগ্রহের সঙ্গে সঙ্গে বিক্রেতার কাছ থেকে এদের পরিচর্যা সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করা যায়। আর বনসাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে যে কেউ নিজেই শুরু করতে পারেন বনসাই চর্চা।