raes-sultanএর আগেও একইদিন সালমান খান ও শাহরুখ খানের সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল। তাতে শেষ হাসি ছিল কিং খানের মুখে। সে দশা ইতোমধ্যে পাল্টে গেছে। আগের শত্রুতা এখন রীতিমত গলাগলিতে পরিণত হয়েছে। অথচ মুখোমুখি অবস্থানে আছে শাহরুখের ‘রাইস’ ও সালমানের ‘সুলতান’।

বেশ আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়, রোজার ঈদে মুক্তি পাবে সিনেমা দুটি। এমন লড়াই নিয়ে আগাম হিসেব কষতে বসেছেন বলিউডের বাণিজ্য বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ফি বছর বড় হিট ছবিগুলো উপহার দেন খান নামের তারকারা। একইদিন দুই খানের সিনেমা মুক্তি মানে বলিউডেরই লোকসান।

২০১৫ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি পায় শাহরুখ অভিনীত ‘দিলওয়ালে’ ও সঞ্জয় লীলা বানসালি পরিচালিত ‘বাজিরাও মাস্তানি’। দুই সিনেমা বাণিজ্য করলেও কোনো রেকর্ড গড়তে পারেনি। উপরন্তু দেশের বাজারে শাহরুখের সিনেমাটিই কম আয় করেছে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন প্রতিযোগিতা থেকে সরে আসা উচিত দুই তারকার। শাহরুখ তেমন ইঙ্গিত দিলেও ‘রাইস’র সরে আসার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও আসেনি।

একইদিনে মুক্তি পেলে পর্যাপ্ত সংখ্যক পর্দা পাবে না ‘রাইস’ ও ‘সুলতান’। এমনটা বলছেন সিনেমা চেইন পিভিআরের প্রধান নির্বাহী কমল গায়ানচন্দন। তার মতে, দুই সুপারস্টারের সিনেমা দেখার জন্য দর্শক আগ্রহী। কিন্তু ‘রাইস’ ও ‘সুলতান’ একইদিন মুক্তি পেলে চাহিদার তুলনায় যোগান কম হয়ে যাবে। যা প্রযোজক ও সিনেমা হল মালিক— দুইপক্ষের জন্যই লোকসান। তাই উচিত সিনেমা দুটিকে আলাদা আলাদা দিনে মুক্তি দেওয়া। তার মতে, সালমান-শাহরুখের সিনেমায় দিনক্ষণ বড় কথা নয়, যে কোনো সময়ই ব্যবসা করবে।

তবে পর্দা ভাগাভাগির ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকবেন সালমান। এমনটা জানান মহারাষ্ট্রভিত্তিক এক প্রদর্শক। কারণ ‘সুলতান’ নির্মাণ করছে নামি প্রযোজনা সংস্থা ইয়াস রাজ ফিল্মস। ভারতীয় সিনেমার বাজারে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে  শক্তিশালী অবস্থান। ফলে বেশি পর্দা পেতে সমস্যা হবে না ‘সুলতান’র।

ইতোমধ্যে ইয়াস রাজ ফিল্মস প্রভাব খাটানো শুরুও করেছে সিনেমা বাজারে। এ প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে নির্মিত শাহরুখ অভিনীত ‘ফ্যান’ মুক্তি পাচ্ছে শুক্রবার। এ সিনেমা প্রদর্শনের শর্ত হিসেবে ‘সুলতান’কে জুড়ে দিয়েছে ইয়াস রাজ ফিল্মস।

আবার একক পর্দা ও মাল্টিপ্লেক্সের লড়াই চলছে ভারতজুড়ে। পশ্চিম বাংলার এক প্রদর্শক জানান, গতানুগতির একপর্দার প্রেক্ষাগৃহে বরাবরই সালমানের রাজত্ব। অন্যদিকে মাল্টিপ্লেক্স শাসন করেন শাহরুখ। সে হিসেবে একইদিন ‘রাইস’ ও ‘সুলতান’ মুক্তি পেলে পর্যাপ্ত দর্শক পাবেন না দুই খান।

এ ছাড়া বর্তমান সময়ে সিনেমার লাইফটাইমও বড়জোর তিন বা চার সপ্তাহ। ফলে এ সময়ের মধ্যে বেশির ভাগ নিয়মিত দর্শকের দ্বারে পৌঁছবে না দুই সিনেমা। সব মিলিয়ে পিছিয়ে আসা ছাড়া উপায় নেই ‘রাইস’র। এখন দেখার পালা সিনেমা দুটি একইদিনে মুক্তি পেলে বলিউডের হিসেব-নিকেশ কোথায় দাঁড়ায়!