এসপিবি.এন নিউজ – অনলাইন ডেস্ক: নীলফামারীর ডিমলায় প্রেমের সূত্র ধরে কলেজ ছাত্রীকে বিয়ের পর তা অস্বীকার করায় গহরপুর বিএমআই কলেজের ইংরেজির এক প্রভাষককে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখেছেন ওই ছাত্র্রীর পরিবার ও এলাকাবাসী।

জানা গেছে, অভিযুক্ত প্রভাষক আহসান হাবীব সোমবার ছাতনাই ইউনিয়নের ছাতনাই গ্রামে প্রথম স্ত্রী দাবিদার কলেজছাত্রী ফেরদৌস জান্নাত রুমার বাড়িতে দেখা করতে গেলে তাকে দড়ি দিয়ে বেধে রাখে ছাত্রীর পরিবার।

এদিকে ওই ঘটনায় হাফিজা খাতুন নামে আরেক নারী ওই প্রভাষকের স্ত্রী দাবি করে তাকে উদ্ধারের জন্য থানায় অভিযোগ দিয়েছে। অভিযুক্ত আহসান হাবীবকে নিয়ে দুই নারীর টানাটানির ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

শিক্ষককে বেঁধে রাখার সংবাদ শুনে পূর্ব ছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক আব্দুল লতিফ খান, ছাতনাই কলোনী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ, জেলা পরিষদের ১ নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল মতিন খান মতি ওই বাড়িতে যান। পরে প্রভাষকের বাঁধন খুলে দেয়া হয়।

এ বিষয়ে আহসান হাবীব বলেন, রুমা সঙ্গে আমার দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে বিয়ের বিষয়টি সত্য নয়। তবে কী কারণে রুমার বাড়িতে এসেছেন তার উত্তর দিতে পারেননি প্রভাষক।

পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের ছাতনাই গ্রামের মৃত ফজলুল হকের মেয়ে ফেরদৌস জান্নাত রুমার দাবি, ২০১২ সালে গহরপুর বিএমআই কলেজে পড়ার সময় রুমাকে ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক আহসান হাবীব প্রেমের প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে রুমাকে আহসান হাবীব বিয়ে করেন। তারা দীর্ঘদিন দুজনে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে নীলফামারী শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন।

এদিকে ২০১৫ সালে আহসান হাবীব রাজশাহীতে মোবাইলে প্রেমের সূত্রে গোপনে হাফিজা খাতুনকে বিয়ে করেন। হাফিজাকে বিয়ের পর আহসান হাবীব রুমাকে অস্বীকার করেন বলে দাবি করেন রুমা।

গহরপুর বিএমআই কলেজের অধ্যক্ষ সুলতান আহম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। ওই প্রভাষকের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের বিধিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডিমলা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইমাদ উদ্দিন ফারুক ফিরোজ বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে কলেজছাত্রীর অভিযোগ শুনে হতবাক হয়ে যাই। ওই কলেজছাত্রীকে প্রতারণা করে বিয়ে অতঃপর ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রভাষককে আটক করা হয়েছে।

সূত্র: জাগোনিউজ