pa fathaগোড়ালির ফাটল, বা পা ফাটা কেবল একটি সাধারণ সৌন্দর্যসংক্রান্ত সমস্যা এবং একটি বিরক্তিকর উৎপাত হতে পারে, কিন্তু এ থেকে আবার গুরুতর শারীরিক সমস্যাও সৃষ্টি হতে পারে৷ পায়ের তলায় গোড়ালির বাইরের দিকের চামড়া শক্ত, শুষ্ক হয়ে গেলে ও ছাল উঠতে থাকলে পা ফাটে, এবং মাঝে মাঝে এত গভীর ফাটল হয় যে ব্যথা করে বা রক্ত বার হয়৷ শীতকালে এ সমস্যা আরো প্রকট হয়ে দাঁড়ায়। আসুন এক নজরে দেখে নেয়া যাক এর প্রতিকার।

সমস্যা যাদের বেশি
শীতকালে যেকোনো মানুষেরই পা ফাটে, কিন্তু কারও কারও এই সমস্যা খুব বেশি প্রকট হয়ে দেখা দিতে পারে। যেমন: যাদের থাইরয়েডে সমস্যা আছে তাদের এমনিতেই ত্বক খুব শুষ্ক থাকে, একই কথা ডায়াবেটিসের রোগীদের বেলায়ও প্রযোজ্য। ডায়াবেটিসে স্নায়ুজনিত সমস্যায় পায়ের আর্দ্রতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অনুভূতিতেও সমস্যা দেখা দেয়। তাই অনেক সময় পায়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়ে ঘা বা গ্যাংগ্রিন পর্যন্ত হতে পারে। যাদের সোরিয়াসিস, একজিমা বা কোনো চর্মরোগ আছে তাদের পায়ে সমস্যা বেশি হয়। বয়স্ক ব্যক্তিদের পা ফাটার সমস্যা বেশি।

কেন পা ফাটে

১. পুরো শরীরের মধ্যে পা ও এর তলাটাই সবচেয়ে শুষ্ক। কেননা দেহের অন্যত্র ত্বকের মাঝে তৈলগ্রন্থি থাকলেও পায়ের তালুতে তা নেই। কেবল ঘর্মগ্রন্থি আছে। ঠান্ডার দিনে ঘামও তেমন হয় না বলে পায়ের তলার আর্দ্রতা সহজে বিনষ্ট হয়। ফলে পা শুষ্ক হয়ে পড়ে ও ত্বক ফেটে যায়।
২. পা যখন ফাটে, তখন ত্বক লাল হয়ে যেতে পারে, চুলকাতে পারে। এমনকি পায়ের ত্বক খোসার মতো উঠে গিয়ে ঝরে পড়তে পারে। কখনো রক্তাক্ত হতে পারে, ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে।
পরামর্শ
=> খুব ঠান্ডা আবহাওয়ায় পা মোজা দিয়ে ঢেকে রাখুন।
=> প্রতিদিন গোসল বা অজুর সময় পা ভেজানোর পর একটা শুকনো তোয়ালে বা কাপড় দিয়ে ভালো করে মুছে নিন। গোড়ালি ও তালুতে পেট্রোলিয়াম জেলি বা গ্লিসারিন মাখুন।
=>  সপ্তাহে এক দিন পায়ের বিশেষ যত্ন নিন। গামলায় লেবুর রসমিশ্রিত হালকা গরম পানিতে পা ভিজিয়ে পা ঘষে মৃত কোষ ফেলে দিন। লেবুর রসে যে অ্যাসিটিক অ্যাসিড আছে তা মৃত কোষ ঝরতে সাহায্য করবে। তারপর পা মুছে পেট্রোলিয়াম জেলি বা গ্লিসারিন লাগিয়ে নিন।
=>  জটিলতা বেশি হলে বা সংক্রমণ হয়েছে মনে হলে  চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

=> নিয়মিত পা ময়েশ্চারাইজ় করলে গোড়ালি ফাটা আটকান যায়৷ একবার ফাটা দেখা দিলে, রোজ পিউমিস স্টোন দিয়ে ঘষে পুরু ও ফাটা চামড়ার স্তর আস্তে আস্তে কম করা যেতে পারে৷

=>  খালি পায়ে বা গোড়ালি খোলা জুতো, চটি বা পাতলা সোলওয়ালা জুতো পরে হাঁটা এড়িয়ে চলুন৷ ভাল শক অ্যাবজ়র্পশন ব্যবস্থা আছে এমন জুতো অবস্থাটিকে সারিয়ে তুলতে সাহায্য করবে৷

=> দিনে অন্তত দুবার পা ময়েশ্চারাইজ় করলে ও ঘুমোনর সময় ময়েশ্চারাইজ়ারের উপর মোজা পরে শুলেও উপকার হবে৷

=> পা ফাটা (প্রতিরোধের জন্য প্রতিদিন সকালে গোসলের আগে পায়ে ভাল করে ১ চা চামচ তিল তেল বা নারকেল তেলের সঙ্গে ৩-৪ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার অয়েল বা আমন্ড অয়েল, ১ চা চামচ গিস্নসারিন, ১ চামচ গোলাপ পানি, সিকি চামচ ভিনিগার মিশিয়ে নিয়ে পুরো হাতে, পায়ে, পায়ের পাতায় লাগিয়ে রাখুন মিনিট দশেক। সামান্য গরম ঠান্ডা পানিতে হাত-পা ধুয়ে নিয়ে আলতো করে ময়েশ্চারাইজার ও গ্লিসারিন মালিশ করে নিন।

=> বাড়িতে সব সময় স্লি পার বা সুতির মোজা পরা অভ্যাস করুন ।

=> ১ চা চামচ পেট্রোলিয়াম জেলির সঙ্গে ১ টেবিল চামচ মুলতানি মাটি, ১ চা চামচ মধু, ২ চা চামচ গিস্নসারিন, ১ চা চামচ মুগডাল বাটা, ২ চা চামচ গোলাপ পানি দিয়ে পেস্ট বানিয়ে পুরো পায়ে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রেখে হাল্কা গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত এই প্যাক লাগালে পা ফাটা থেকে মুক্তি পাবেন।