এক ঘন্টা ধরে পুড়ে মরেছে সাবিনা। রাজশাহীর ছোট বনগ্রাম উত্তরপাড়ার একটি ঘরে আগুনে পুড়ছে সাবিনা (২২)। ঘরের দরজায় ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগানো। তবে খোলা জানালা দিয়ে পাশের ঘরের মানুষ ও প্রতিবেশীদের অনেকেই দেখেছে আগুনে পুড়ে সাবিনার দুঃসহ মৃত্যু যন্ত্রণা। কিন্তু পেশায় যৌনকর্মী বলে কেউ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যায়নি।

স্টোভের কেরোসিন ঢেলে নিজের দেয়া আগুনে রক্তমাংসের শরীর প্রায় এক ঘন্টা ধরে পুড়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙ্গে বাইরে আনার পর তার মৃত্যু হয়। যৌনকর্মী সাবিনার মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ তার কথিত স্বামী গিয়াস উদ্দিন ও নিউ প্যারাডাইস আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার মোঃ মাসুদসহ অজ্ঞাতনামা হোটেল বয়দের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া মডেল থানায় আত্মহত্যার প্ররোচণার মামলা করেছে। তবে শুক্রবার পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি।

পুলিশ জানায়, নগরীর শিরোইল পুরাতন বাসটার্মিনাল এলাকার আবাসিক হোটেল নিউ প্যারাডাইসে দেহ ব্যবসার জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে যৌনকর্মীদের এনে নিজের ভাড়া বাড়িতে রাখতো হোটেল ম্যানেজার মোঃ মাসুদ। ঐ যৌনকর্মীদেরই একজন সাবিনা। তার সঙ্গে ঐ হোটেলের বয় গিয়াস উদ্দিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা বিয়ে করেছিল বলে এলাকার মানুষের কাছে দাবিও করতো। তবে এর স্বপক্ষে কোন তথ্য প্রমাণ মেলেনি। গত বুধবার রাতে ম্যানেজার মাসুদের ভাড়া বাড়ির একটি ঘরে সাবিনার সঙ্গেই ছিল কথিত স্বামী গিয়াস।

হোটেলে দেহব্যবসার জমানো টাকা জমা ছিলো কথিত স্বামী গিয়াস উদ্দিনের কাছে। অসুস্থ মায়ের চিকিত্সার জন্য সেই টাকা চেয়েও পায়নি সাবিনা। উল্টো গিয়াস ও মাসুদের দুর্ব্যবহার, এমনকি হোটেল ও ভাড়া বাড়ি থেকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়ার হুমকির ক্ষোভে দুঃখে সাবিনা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

এ ব্যাপারে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি (তদন্ত) খান মুহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, হোটেল নিউ প্যারাডাইসে দীর্ঘ দিন ধরে দেহব্যবসা তথা অসামাজিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছিলো। পুলিশ ঐ হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কাজে লিপ্ত অবস্থায় কয়েকবার যৌনকর্মী ও খদ্দের আটক করে। এমনকি হোটেলে একবার তালাও ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরও সেখানে অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ করা যায়নি। এরই শিকার হয়েছেন যৌনকর্মী সাবিনা।

ইত্তেফাক