নারী কেন পতিতাবৃত্তির পথে পা বাড়ায় ? ==>>

১. স্বামী পরিত্যক্তা নারী যখন নিজের পরিবার ও সমাজের কাছ থেকে ত্বরিত কোন পুনর্বাসনের ব্যবস্থা পায় না,

২. দরিদ্র পরিবারের কোন মেয়ে যখন যৌতুকের দায়ে বিয়ের বয়স পার হয়ে গেলেও কারো ঘরে গৃহবধূ হওয়ার ভাগ্য হয় না,

৩. অপরিহার্য কারণে যখন অর্থের একান্ত প্রয়োজন হয়ে পড়ে,

৪. ধনী বাবার লাগামহারা আত্মবিলাসী কন্যার বন্ধুদের সাথে অবাধে বিচরণ করা,

৫. সমাজের লম্পট শ্রেণী যখন বার বার কোন নারীকে লোভনীয় অর্থের প্রস্তাব দিয়ে এ কাজে ধাবিত করতে মরিয়া হয়ে ওঠে,

৬. কিডন্যাপের কারণে অসহায় কোন মেয়ে বা নারী শিকার হয়,

৭. অসাধু হোটেল ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত,

৮. মাদকের ব্যাপারে প্রশাসনের জোরালো ভূমিকা না থাকা

৯. নারী-পুরুষের অবাধে বিচরণ,

১০. ধর্মীয় মূল্যবোধ সম্পর্কে উদাসীনতা ইত্যাদি।

এসব কারণ বিশ্লেণ করে দেখা গেছে, সমাজ থেকে পতিতাবৃত্তি বা যৌন অপরাধ দূরীকরণে সমাজের এক একজন সদস্য থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা পর্যন্ত আমরা সবাই নিম্নোক্ত উদ্যোগগুলো নিলে সমাজে কোন নারী এহেন কাজে আত্মনিয়োগ করবে না-

১. পতিতালয়গুলোকে কর্মসংস্থান ওউৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা অর্থাৎ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের ব্যাপক প্রসার,

২. যৌন কর্মীদের অজানা আশঙ্কা, হতাশা দূর করার জন্য এপথ থেকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া,

৩. বিধবা বা স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের জন্য পুনর্বাসন ও উপার্জনের ব্যবস্থা করা,

৪. নারী নির্যাতন ও যৌতুক প্রথাকে জেনা ব্যাভিচারের চেয়েও জঘন্য অপরাধ মনে করে ঘৃণা করা,

৫. হোটেল ব্যবস্থাপনার উপর সক্রিয়ভাবে প্রশাসনিক নজরদারী রাখা,

৬. মাদকের ব্যবহার উৎখাত করার জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ,

৭. কিডন্যাপ ও ব্লাকমেইল চক্রকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া,

৮. ইন্টারনেট ও মাল্টিমিডিয়ার উপর কড়া নজরদারী রাখা,

৯. ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করতে অপরাধের ইহ ও পারলৌকিক পরিণামের ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করা,

১০. মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অবহেলিত নারীদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের জন্য আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা রাখা,

১১. বেসরকারিভাবে শুধুমাত্র যৌন অপরাধ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কোন সংস্থা গঠন করে সার্বক্ষণিকভাবে এবং বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে তৎপর থাকা,

১২. সালিশের মাধ্যমে শুধুমাত্র জরিমানা বা শাস্তির বিধান নয় অসহায় নারীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া।যৌন অপরাধের বিষয়ে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি, মসজিদে জুমার খুতবার আগে উপদেশ, পাড়ায় মহল্লায় ওয়াজ মাহফিলে এ বিষয়ে আলোচনার ওপর জোর দেয়া উচিত। পতিতাবৃত্তির প্রকৃত কারণ চিিহ্নত করে এর প্রতিকারে বাস্তবসম্মত উপায় বের করা দরকার।